Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে করোনায় আরও এক মৃত্যু, শনাক্ত ১০         বিশ্বনাথে ঐতিহ্যবাহী ‘পলো বাওয়া’ উৎসব পালিত         জৈন্তাপুরে এসএসসি-২০০২ ব্যাচের শীতবস্ত্র বিতরণ         কুলাউড়া পৌরসভায় আ.লীগ প্রার্থী সিপারের জয়         জগন্নাথপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আক্তার জয়ী         কমলগঞ্জে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হলেন জুয়েল আহমদ         সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হলেন নাদের বখত         নবীগঞ্জে দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র হলেন বিএনপির প্রার্থী         মাধবপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর জয়         ছাতকে চতুর্থ মেয়াদে মেয়র হলেন কালাম চৌধুরী         এলাহাবাদ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষের অপসারণ দাবি         সিলেটে আরও ১৫ করোনা রোগী শনাক্ত, সুস্থ ২১        

চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের প্রাণ ‘গোয়াদার বন্দর’

মো.আতিকুর রহমান আতিক: চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পের অক্সিজেন হলো গোয়াদার পোর্ট আর সিপিইসি হলো চীনের ইককোনমির প্রধান ইউপনস, যা দিয়ে আমেরিকার ইকনমিক পরাশক্তিকে পরাস্ত করতে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যার ফলে গোয়াদারের গুরুত্ব পুরো বিশ্বের কাছে এবং সিপিইসি চীনের এক শক্তিশালি অস্ত্র।

গোয়াদারের অবস্থান ২৫.০৭ উত্তর ও ৬২.৩২ পূর্বে অবস্থিত। ২০০ বছর ওমানের আওয়াতাধিন থাকার পর এটি ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের দখলে চলে আসে।

২২৯২ একরের এই বন্দরটি আরব সাগরের গদর উপসাগরের তীরে অবস্থিত। যেটি কিনা পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে গদর শহর অন্তর্গত। শহরটি করাচি শহর থেকে ৫৩৩ কিলোমিটার ও ইরান সীমান্ত থেকে ১২০ কিলোমিটার এবং ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে ১৭০ কি.মি. দূরে অবস্থিত।

শুধু তাই নয়, এটি পৃথিবীর অন্যতম ও কৌশলগত বাণিজ্য রুট হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত। যা চীন ও পাকিস্তানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ পাকিস্তান-চীন সম্পর্ককে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

এই বন্দরের প্রথম অংশ ২০০৬ সালে সমাপ্ত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের কোং পিএসএ বন্দরের প্রথম অংশের বাস্তবায়ন কার্যক্রম ২০০৭ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত পরিচালনা করতো। ২০১৩ সালে বন্দরের পরিচালনা কার্যক্রম চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানী চায়না ওভার সিজ হোল্ডিং কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে।
এই বন্দরের কাজ শেষ হলে পাকিস্তানের অর্থনীতির অবস্থার অনেক পরিবর্তন ঘটবে।কেননা এর মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

এই বন্দর নির্মানের সফলতা ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। এই বন্দর ব্যবহার করে CPEC প্রজেক্টের আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান গুলো সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে। এছাড়া চীনা সরকারের তো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হচ্ছেই।

আইটি খাতে রাশিয়ান প্রযুক্তি জায়ান্ট ভেলকম পাকিস্তানের উচ্চাকাঙ্খিত আইটি ফার্মে মোট ২ বিলিয়ন বিনিয়োগ করছে যেটা হতে যাচ্ছে এশিয়া মহাদেশের ২য় বৃহত্তম আইটি প্রজেক্ট (যৌথ ভাবে)। রাশিয়ান এভিয়েশন কম্পানি সুখোই পাকিস্তানের এভিয়েশন কম্পানি রহমতুল্লাহ গ্রুপের ও পাকিস্তান সরকারি এভিয়েশন গ্রুপের সাথে যৌথ বিনিয়োগ করছে। ফলে পাকিস্তান তার উচ্চাকাঙ্খিত এভিয়েশন সেক্টরে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়া পাকিস্তানে জ্বালানি খাতে ১০ বিলিয়নেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে, রাশিয়ান জ্বালানি কোম্পানি গুলো পাকিস্তানে তেল শোধনাগার, বিদ্যুত প্লান্ট সহ অনেক বিনিয়োগ করছে এবং পাকিস্তানের জ্বালানি কম্পানি গুলোকে প্রযুক্তি সহায়তা দিচ্ছে।

ফ্রান্সের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Renault ৫০০ মিলিয়ন বিনিয়োগ করেছে। আপনারা কি জানেন পাকিস্তান গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিশ্বে তৃতীয়। ফলে আউটো শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে।
জার্মান ভারি যানবাহন নির্মাতা MAN তাদের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ পাকিস্তানে করছে। সুইজারল্যান্ডের কম্পানিও ভারি যানবাহন শিল্পে বিনিয়োগ করছে।

জাপানের ব্যাবসায়িদের এখন সবচেয়ে বেশি আকর্ষন পাকিস্তানে। তারা অলরেডি বিনিয়োগ শুরু করেছে।

এ থেকে বোঝা যায়, এই চায়না-পাকিস্তান ইকোনোমিক করিডোরের আওতাধীন এই বন্দর প্রতিনিয়ত পাকিস্তান ও চায়নার জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য নিয়ে আসছে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

0Shares





Comments are Closed