Main Menu

সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৮৮ হাজার কোটি

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

ব্যাংকগুলো হলো—অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, রূপালী ব্যাংক পিএলসি, সোনালী ব্যাংক পিএলসি, বেসিক ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক।

Manual3 Ad Code

অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে খেলাপি ঋণের উচ্চ হার কমানো জরুরি। এ লক্ষ্য বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, স্বল্পমেয়াদে খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর জন্য শ্রেণিকৃত ঋণ রেজল্যুশন স্ট্র্যাটেজি সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন হালনাগাদের কাজ চলছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ব্যাংকিং খাতে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস-৯) বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণের জামানত মূল্যায়ন, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল নীতিমালা হালনাগাদ, খেলাপি ঋণ আদায়ে কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা এবং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য বিদ্যমান প্রণোদনা নীতিমালা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একজন ঋণগ্রহীতার জন্য পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, অর্থঋণ আদালতের বিচারক প্যানেলে অভিজ্ঞ ব্যাংকার অন্তর্ভুক্তি, রিটের মাধ্যমে ঋণ আদায় কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতা ঠেকানো এবং বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠনে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংকগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ‘আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সংশোধনী আইন প্রণয়ন এবং নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট আইন সংশোধনের মাধ্যমে চেক জালিয়াতি ও চেক ডিজঅনার মামলার বিচার আরও কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Manual2 Ad Code

তার ভাষ্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার মাধ্যমে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code