Main Menu
শিরোনাম
সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ৮২৯৭, মৃত্যু ১৫১         সিলেটে দুই ল্যাবে আরো ৮৫ জনের করোনা শনাক্ত         সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত ব্যবসায়ীর মৃত্যু         শাবির ল্যাবে আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         নবীগঞ্জে দুলাভাই-শ্যালিকার পরকীয়ার বলী হলেন মা         শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় নিহত ১         জাফলংয়ে আসা পর্যটকদের ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রশাসন         বিশ্বনাথে দুই ছেলের হামলায় পিতা আহত         ধর্মপাশায় নৌকা ডুবে মা-ছেলেসহ ৩জনের মৃত্যু         ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু         দলই চা বাগান খুলে দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন         পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং ও ভুতুড়ে বিল বন্ধের দাবি        

এবারও দাম নেই চামড়ায়

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত বছরের ন্যায় এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার দামে ধস নেমেছে। বেশি দামে বিক্রির আশায় যারা শহর, নগর, গ্রাম, গঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন, তাদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। কারণ, চামড়ার দাম একেবারেই কম। গরুর একেকটি চামড়া ২০ টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে! বড় আকারের গরুর চামড়ার দাম সর্বোচ্চ ওঠছে ১০০ টাকা!

এই পরিস্থিতিতে চামড়া ব্যবসার সাথে জড়িতরা বলছেন, এভাবে চললে ধ্বংস হয়ে যাবে এ খাত।

এ বছর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির কাঁচা চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ শনিবার পবিত্র ঈদ-উল-আযহা। সিলেটজুটে হাজার হাজার পশু কোরবানি হয়েছে সকালে। দুপুরের পর থেকে সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয় নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে। প্রতি বছরই এখানে হাজার হাজার চামড়ার স্তূপ জমে।

শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি রেজিস্ট্রারি মাঠে অবস্থান করে দেখা যায়, গরুর চামড়া একেবারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। আর ছাগলের চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনাগ্রহ রয়েছে।

বড় আকারের গরুর চামড়া প্রতি পিস ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিন্তু ছোট আকারের গরুর চামড়া প্রতি পিস ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকার যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, সে দরে চামড়া বিক্রি হতে দেখা যায়নি।

খুচরো পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বেশি দাম দিয়ে প্রতি পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু পাইকারি ব্যবসায়ীরা, যারা ট্যানারিতে নিয়ে চামড়া বিক্রি করেন, তারা নানা কারণ দেখিয়ে দাম বেশি দিতে নারাজ। এতে তাদের ক্ষতি হচ্ছে।

মো. জুনেদ আহমদ নামের এক চামড়া বিক্রেতা বলেন, ‘প্রতি পিস চামড়া ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা বাইরে থেকে গাড়িভাড়া দিয়ে চামড়া নিয়ে এসেছি। এখন গাড়িভাড়াও নিজেদের ওপর পড়ছে।’

শহরতলির টুকেরবাজারের মৌরশ আলী গ্রাম-গঞ্জ থেকে বেশ কিছু চামড়া কিনে শহরে বেশি দামে বিক্রির আশায় নিয়ে এসেছেন। তাঁর দাবি, তিনি প্রতি পিস চামড়া ৫০০ টাকা দিয়ে কিনে এনেছেন। কিন্তু এখন প্রতি পিস চামড়া বেপারিরা ৪০-৫০ টাকা দর করছেন।

মৌরশ আলী বলেন, ‘৫০০ টাকা দিয়ে প্রতি পিস চামড়া কিনে এনেছি। এখন দাম বলে ৪০-৫০ টাকা। এই দাম ওঠলে চামড়া তো সাগরে ভাসিয়ে দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘গেলবার ২০ হাজার টাকা লস খেয়েছি। এবার লস খেলে উপায় নাই। চামড়ার দাম একেবারেই নাই এখন, গরীবের যেন মরার পথ!’

যারা সিলেটে খুচরো পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক চামড়া কিনে ঢাকার বিভিন্ন ট্যানারিতে বিক্রি করেন, সেই চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা তাদের টাকা আটকে রেখেছেন। আগের টাকা পাওনা থাকায় তারা নতুন করে চামড়া কেনায় বিনিয়োগ করতে পারছেন না। মূলত পুরনো পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশাতেই এখন কম দামে চামড়া কিনে ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করছেন তারা।

যেমনটি বলছিলেন চামড়া ব্যবসায়ী আকরাম আলী, ‘চামড়া একটা ভালো খাত ছিল দেশের জন্য। সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গেল বছরও (দাম না পাওয়ায়) অনেক চামড়া নষ্ট হয়েছে। হাজার হাজার চামড়া সুরমা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। এ বছরও প্রচুর চামড়া নষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘‘ট্যানারিগুলোতে আগের টাকাই পাওনা রয়েছে। এবার ফোন করলে তারা বলেছে, ‘চামড়া কিনবেন না, ঢাকা আসলে টাকা দিতে পারবো না।’ এবার ছাগলের চামড়া ট্যানারিগুলো রাখছে না। এক হাজার চামড়া হলে তারা দুই হাজার টাকা বলে।’

চামড়া নিয়ে চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বিদেশে রফতানির দিকে মনোযোগী হতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

এদিকে চট্টগ্রাম নগরীর আতুরার ডিপো এলাকায় চামড়ার আড়তগুলোতে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ। এবার এলাকা ভেদে ৭০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। এদিকে ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুর থেকে আসা চামড়াগুলো পরিষ্কার করা ও লবণ দেওয়া শুরু করে শ্রমিকরা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দামেই আমরা চামড়া কিনছি। লবণ ছাড়া কাঁচা চামড়া প্রতিটি লবণের খরচ বাবদ ৫-৬ টাকা কম দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সমিতির ১১২ জন সদস্য ছাড়াও আরও ১৫০ জন ব্যবসায়ী কোরবানির চামড়া কেনার সঙ্গে জড়িত। চার লাখের বেশি কোরবানির পশুর চামড়া কেনার লক্ষ্য রয়েছে। তবে যেহেতু এখন গরম পড়ছে, তাই দ্রুত চামড়া ধুয়ে লবণ দিলে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

জানা যায়, এ বছর চট্টগ্রামে গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ধরা হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা ও বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা। গত বছর এ দাম ছিল যথাক্রমে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

বন্দর এলাকার বাসিন্দা জিকু রহমান বলেন, গরুর দামের উপর নির্ভর করছে চামড়ার দাম। ১ লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া ৩০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৩২০ টাকায়।

জানা গেছে, এ বছর চামড়ার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য, বাংলাদেশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা, করোনা পরিস্থিতিতে সেই চাহিদা সঙ্কোচনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা, দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান, বর্তমানে চামড়া মজুদের মতো নানান বিষয় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, এবার সবচেয়ে কম দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে। ট্যানারি-মালিকদের নির্ধারণ করে দেওয়া দামও মিলছে না চামড়ার। কম দরে চামড়া বিক্রি হওয়ায় দরিদ্র প্রতিবেশী, এতিমখানা, মাদ্রাসা প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এত কম দর হওয়ার কারণ হিসেবে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন বিক্রেতারা। এদিকে কম দরে বেচাকেনা হওয়ায় চামড়া পাচারের আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোরবানির পশুর চামড়া সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ থাকলে তা অধিদফতরের হটলাইন নম্বরে (১৬১২১) জানাতে পারবেন সংশ্লিষ্টরা।

0Shares





Related News

Comments are Closed