পানির উপর ভাসছে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ
আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে : বন্যার পানির উপর ভাসছে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলা। ব্যাপক পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জে বাড়তে শুরু করেছে সুরমা নদীর পানি। গত শুক্রবার রাত থেকে সুরমা নদীর পানি বেড়ে গিয়ে জেলার সমতল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্য্যায় হাওরের জনপদ বিলিন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘন্টায় সুনামগঞ্জে ১৯০মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে সুরমা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জ শহরের নদী তীরবর্তী নবীনগর, ষোলঘর, কাজিরয়েন্টে, উকিলপাড়া, মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, উত্তর আরপিননগর ও তেঘরিয়া এলাকার সবগুলো বাসাবাড়ী ও দোকানপাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের মইনপুর,ইব্রাহিমপুর ও সদরগড়সহ বিভিন্ন গ্রাম সম্পুর্ণরুপে প্লাবিত হয়েছে। অনেক সড়কে জলাদ্ধতার কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পৌর এলাকার নতুনপাড়া, সুলতানপুর, হাছননগর ও আফতাবনগর এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে গেছে। পানি বন্ধী হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ।
শহরের পশ্চিম হাজিপাড়ার বাসিন্দা ফজলে রাব্বী বলেন, এমনিতেই করোনা কারণে মানুষ ঘরবন্ধী, তার উপর আবার ঘরে পানি উঠেছে। মূল সড়কে পানি উঠায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে।
শহরের আরপিননগর এলাকার আল-আমিন ও শফিকুল হক বলেন, সুরমা নদীর পানি বাড়লেই আমাদের এলাকার মানুষ বিপাকে পড়ে। সড়ক উপছে পানি ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। রবিবার সকালেও এলাকার অনেক ঘরে পানি ঢুকে গেছে।
শহরের পশ্চিমবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আবু সুফিয়ান বলেন, আমার দোকানে রাতে হঠাৎ করে সুরমা নদীর পানি ঢুকে গেছে। ড্রেনে ময়লা জমে যাবার কারণে পানিও নামছে না। আমরা ব্যবসায়ীরা পড়েছি বিপাকে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবিবুর রহমান বলেন, ভারতের মেঘালয়- চেরাপুঞ্জিতে গত ৭২ ঘণ্টায় ৯০২ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যা এই মৌসুমের সর্বোচ্চ। একারণে সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, পাহাড়ি ঢল নামছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসেন আহমদ রাসেল জানান, শহরের উত্তর দিকে পানি কমলেও পশ্চিমদিকে পানি বাড়ছে। রবিবার হঠাৎ করে বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেও পাহাড়ি ঢলের পানির ভয়াল শ্রোতধারা বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। নবীনগরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কার্যালয়, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ, ষোলঘর প্রাইমারী স্কুলসহ আমি ৪টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করে এসেছি।
Related News
জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে জগন্নাথপুরে প্রবাসে থাকা স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।Read More
কমলগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে শফিকুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবক আত্মহত্যাRead More



Comments are Closed