Main Menu

সিলেটের তিন উপজেলার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম : সিলেটে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, লোভাসহ প্রায় সব নদীর পানিই বেড়েছে। এর মধ্যে দুটি নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। ইতিমধ্যে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেট কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পাউবো জানায়, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ০.২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

অন্যদিকে, সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে একই সময়ে বিপৎসীমার ০.১১ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এদিকে, সুরমা নদীর পানি সিলেট পয়েন্টেও বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ৯.৭০ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় পানির উচ্চতা ১০.১১ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়।

বেড়েছে কুশিয়ারা নদীর পানিও। গতকাল জকিগঞ্জের আমলশিদ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানি ছিল ১৪.০৩ সেন্টিমিটার। আজ সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে হয়েছে ১৩.৪৩ সেন্টিমিটার।

কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে। বৃহস্পতিবার যেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১১.৩১ সেন্টিমিটার, আজ সেখানে পানি বেড়ে হয়েছে ১১.৭০ সেন্টিমিটার। আর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারার পানির উচ্চতা কাল ছিল ৯.০৭ সেন্টিমিটার, আজ সন্ধ্যা ৬টায় হয়েছে ৯.১২ সেন্টিমিটার।

এদিকে, কানাইঘাটের লোভা নদীর পানি গতকাল সন্ধ্যা ৬টার চেয়ে আজ সন্ধ্যায় ১.০৪ সেন্টিমিটার বেড়েছে। গতকাল ছিল ১৩.৭৮ সেন্টিমিটার। আজ হয়েছে ১৪.৮২ সেন্টিমিটার।

সব নদীর পানি বাড়তে থাকায় বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ শহীদুজ্জামান সরকার সিলেটভিউকে বলেন, ‘আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আগামী দুই দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে বন্যার আশঙ্কা আছে। ইতিমধ্যে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।’

কানাইঘাটের সুরমা, লোভাসহ অন্যান্য নদীর পানি ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। প্রবাহিত পানি বিপদ সীমার উপরে উঠায় নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন আগে উপজেলার ২নং লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির কুওরঘড়ি মন্দিরের ঘাটের পাশে বাধ ভেঙ্গে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করতে থাকে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ছোট সুড়ঙ্গ হয়ে পানি প্রবেশ করে ধীরে ধীরে বাধের আশপাশ ভেঙে পড়ে স্রোতের গতি বাড়তে থাকে। বাধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের খবর পেয়ে জনসাধারণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জেমস লিউ ফারগুসন নানকা বেড়িবাঁধে পৌঁছে উপস্থিত থেকে বাঁধ আটকানোর ব্যবস্থা করেন। বর্তমানে বাঁধের আশপাশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যেকোনো সময় আবারো অন্য কোন দিক দিয়ে পানি প্রবেশ করতে পারে।

অপরদিকে প্রবল পানির স্রোতের কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ফসলের মাঠ বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।

এদিকে বোরো ধান অনেক কৃষক কাটা অবস্থায় জমিতে আছে আবার কেউ কাটতেই পারেননি তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। অনেক কৃষক ক্ষেতের মধ্যে বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। কিছুটা বিক্রি করলেও অনেক সবজি এখনও রয়ে গেছে। পানি বেড়ে অনেক ফসলি জমি ডুবে আছে।

বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে অনেক এলাকার বিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলার ১নং পশ্চিম ও ২নং পূর্ব লক্ষ্মীপ্রসাদ ইউপির শতাধিক পরিবারের বাড়িতে ওঠার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বারিউল করিম খান জানিয়েছেন, গতকাল রাত থেকে পানি বাড়ছে। বন্যার পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে। বন্যায় দুর্গত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মাথায় রাখে তাদের সহায়তা করা হবে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দরা সর্বদা মনিটরিং করবেন বন্যা পরিস্থিতি।

এদিকে, গত দুইদিনের পাহাড়ি ঢলে সারী ও পিয়াইন নদী দিয়ে নেমে আসা পানিতে গোয়াইনঘাটের সবকটি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। সৃষ্ট বন্যার ফলে নিম্নাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্ধি রয়েছেন। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

এছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক শতাধিক ফিসারী এবং সারী-গোয়াইনঘাট সড়ক ও গোয়াইনঘাট-জাফলং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

জানা যায়, পুর্ব জাফলং ইউনিয়নের জাফলং চা বাগান, বাউরবাগ হাইর, আসামপাড়া হাওর, পুর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নাইন্দা, তীতকুল্লি, বুধিগাঁও, খাষ, দাড়াইল, বাংলাইন ও লাতু হাওর, পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের সাতাইন, পাঁচপাড়া, পুকাশ হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার ভোর থেকে সারী ও পিয়াইন নদীতে বিপদসীমার উপরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব জানান, সারী ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় সিংহভাগ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসন বন্যায় আটকে পড়াদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

Share





Related News

Comments are Closed