Main Menu

সিলেটে করোনায় কারাবন্দীর মৃত্যু

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সিলেটে হত্যা মামলার আসামি এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। আহমদ হোসেন (৫৫) নামের ওই হাজতির বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ঘড়াইগ্রামে।

সিলেট কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: আব্দুল জলিল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, তিনি কানাইঘাট থানার একটি খুনের মামলায় গত দুই মাস ধরে জেল-হাজতে ছিলেন। ওই হাজতি গত ১০ মে রবিবার সামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতালে তার শরীরের স্যাম্পুল সংগ্রহ করা হয়। সোমবার তার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এদিকে, মারা যাওয়া বন্দির করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার রাতে ওই বন্দি কারাগারের যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেই ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, মারা যাওয়া ব্যক্তির বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায়। গত ৫ মে একটি খুনের মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ৮ মে (শুক্রবার) তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে তার মধ্যে করোনার উপসর্গ থাকায় ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে প্রেরণ করে।

পরদিন ৯ মে তার নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়। রোববার (১০) মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আর সোমবার (১১ মে) নমুনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, সোমবার ঐ হাজতির করোনা রিপোর্ট পজেটিভ আসার পর তার সংস্পর্শে আসা কারাগারের প্রায় ১২০ জন হাজতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। তাদের সকলের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা টেস্ট করা হবে।

জানা গেছে, কানাইঘাট উপজেলায় একটি খুনের মামরায় গত ৫ মার্চ তাকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। গত ৮ মে তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে তাকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে তিনি মারা যান।

সূত্র মতে, ওই হাজতি হার্টেরও রোগী ছিলেন। যে কারণে গত কিছুদিন ধরে ওসমানী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট খুনোখুনির মামলায় ওই ব্যক্তি গত মার্চে কারাবন্দী হন। তিনি ঘড়াইগ্রাম জামে মসজিদেরও খাদেম ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এই প্রথম কারাগারে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হলেন। এই নিয়ে সিলেট জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক চিকিৎসকসহ তিনজনের মৃত্যু হলো।

Share





Related News

Comments are Closed