ফুলবাড়ীতে ঢুকছে মানুষ, মানছে না লকডাউন
অমর চাঁদ গুপ্ত, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রশাসনের জারিকরা লকডাউন উপেক্ষা করে বিভিন্ন কৌশলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাক, কর্ভাটভ্যানসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী বাহনে আসছে মানুষ। এতে করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তারের আতঙ্কে ভুগছেন এলাকাবাসী।
ইতোমধ্যে একজন যুবকের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর থেকে গোটা উপজেলা জুড়ে আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে জনমনে। বহিরাগত কেউ যেন এলাকায় ঢুকতে না পারে সেজন্য চলছে গ্রাম-পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়েছে পালাক্রমে পাহারা।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌর শহরে দুপুরের পর থেকে মানুষের চলচল কম থাকলেও দুপুর গড়িয়ে বিকেল থেকেই শুরু হচ্ছে মোড়ে মোড়ে আড্ড, জটলাসহ জনসমাগম। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা একদিকে আড্ড ভাঙ্গলে অন্য দিকে শুরু হয়। আবার পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই শুরু হয় আড্ড, জটলাসহ জনসমাগম। পৌর এলাকার ননী গোপাল মোড় এলাকার মাহামুদুল হাসান, মো. সপ্পু, রাসু চৌধুরী ও আজিজুর রহমান জানান, প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যদের নজরদারীকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে ট্রাক, পিকআপ ও কর্ভাটভ্যানে লুকিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ আসছে ফুলবাড়ীতে।
সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে রডবাহী ট্রাকের তীরপলের নিচে লুকিয়ে থাকা সাতজন শ্রমজীবী মানুষকে আবিস্কার করেন স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়। এরই মধ্যে ট্রাক থেকে নেমে দুইজন পলিয়ে যান। স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেও ধরতে পারেননি। অন্যদের ট্রাকের ভেতর রেখেই পুলিশের এএসআই হাসিবুল ইসলামসহ তার সঙ্গীরা ট্রাকটি দিনাজপুরের দিকে পাঠিয়ে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিন মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত ট্রাক, পিকআপ ও কর্ভাটভ্যানে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমজীবী নারী-পুরুষকে এনে সময় ও সুযোগ বুঝে জয়নগর, লক্ষীপুর, পল্লী বিদ্যুৎ মোড়, চন্ডিপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় নেমে দিচ্ছেন চালকরা। এসব মানুষ সময় ও সুযোগ বুঝে নিজ নিজ বাড়ীতে ঢুকে লুকিয়ে থাকছেন। আবার কেউ কেউ দু-একদিন পর বাড়ী থেকে বের হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজ খেয়ালখুশি মতো চতুর্দিকে। এসবের কারণে দিন দিন আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে জনমনে।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফখরুল ইসলমা বলেন, পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে এবং ভোরে বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু মানুষ ফুলবাড়ীতে ঢুকছে শুনছি। এর জন্য রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম চৌধুরী বলেন, ফুলবাড়ীতে একজন করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই লকডাউন মানাতে প্রতিদিনই মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের লোকজনসহ পুলিশ সদস্যরা টহল দিচ্ছেন এবং করোনার ভয়াহতা সম্পর্কে মানুষকে বোঝাচ্ছেন। কিন্তু কিছুসংখ্যক মানুষ তা মানছেন না। এখন থেকে আরও কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Related News
পঞ্চগড়ে যুবকদের স্বাবলম্বী করতে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ
মো.সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড় ব্যাটালিয়ন ১৮ বিজিবির ব্যবস্থাপনায় সীমান্তবর্তী এলাকার ৩৩ জনRead More
পঞ্চগড়ে তরুণদের নিয়ে ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলন শুরু
মো. সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: জাতিসংঘের আদলে আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আলোচনা, কূটনৈতিক নেগোশিয়েশন,Read More



Comments are Closed