Main Menu

মহানায়িকার ৮৯তম জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক: যিনি বাংলা চলচ্চিত্রের পথিকৃত খ্যাত, যার অসাধারণ অভিনয়, সৌন্দর্য আর প্রতিভা দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রকে অলংকৃত করেছেন। ব্যক্তিজীবনে সব পুরুষেরই একজন স্বপ্নের নায়িকা থাকে। কারো কারো জীবনে স্বপ্নের নায়িকা স্বপ্নেই থেকে যায়, অনেকেই তাকে বুকের ভেতর লালন করেন আমৃত্যু। তিনি আর কেউ নন, উপমহাদেশের কোটি কোটি ভক্তের স্বপ্নের মহানায়িকা সুচিত্রাসেন।

আজ ৬ এপ্রিল, তার ৮৯তম জন্মদিন। অবিভক্ত ভারতের বাংলাদেশের পাবনা জেলাতে ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুচিত্রা সেন।

জানা যায়, ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালের বৃহত্তর পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা) বেলকুচির সেনভাঙার জমিদার বাড়িতে রমা দাশগুপ্ত জন্ম নেন। যিনি পরবর্তীতে সুচিত্রাসেন নামে পরিচিত হন। তিনি কৃষ্ণা দাশগুপ্ত হিসাবেও বন্ধুদের কাছে পরিচিত ছিলেন। পরে পাবনা শহরের দিলালপুরের বাড়িতে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। সুচিত্রাসেন পাবনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের (তৎকালীন মহাকালী পাঠশালা) ছাত্রী ছিলেন। পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে চলে যান তারা।

সুচিত্রাসেনের বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন তৎকালের পৌরসভার ট্যাক্স কালেক্টর ও মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত একজন গৃহবধু। বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান এবং তৃতীয় কন্যা ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি দিবানাথ সেন-এর সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন সুচিত্রাসেন।

১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। ১৯৫৩ সালে তার প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদি’। ঐ বছরেই উত্তম কুমারের সঙ্গে তার প্রথম মুক্তি প্রাপ্ত ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’। বাংলা ছবির এক অবিসংবাদিত জুটি হিসেবে পরবর্তী ২০ বছরে উত্তম-সুচিত্রা ছিলেন আইকন স্বরূপ।

১৯৫৫ সালে হিন্দি ভাষায় ‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয় করেন সুচিত্রাসেন। ১৯৭৪ সালে ‘আঁধি’ নামে আরেকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবিতে একজন রাজনীতিকের ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল সুচিত্রাকে। সর্বমোট সাতটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি, এছাড়া একটি তামিল ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছেন।

উত্তমকুমারের সঙ্গে তার শেষ অভিনীত ছবি হীরেন নাগ পরিচালিত ‘প্রিয়বান্ধবী’, সেটি মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে। সুচিত্রা সেন অভিনীত শেষ ছবি ‘প্রণয় পাশা’ মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। ওই বছরই তিনি সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে চিরতরে অবসরগ্রহণ করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।

‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে তিনি প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন। ভারত সরকার তাকে ১৯৭২ সালে “পদ্মশ্রী” পুরস্কারে ভূষিত করেন এবং ২০০৫ সালে তাকে “দাদা সাহেব ফালকে” পুরুস্কারে ভূষিত করেন।

কিন্তু তিনি ওই পুরস্কার নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেছিল। সেসময় মেয়ে মুনমুন সেন তার মায়ের হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। মহানায়ক উত্তম কুমার এর মত্যুর পরে তিনি তাকে ফুল দিতে গিয়েছিলেন। তারপর একবারে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান।

মহানায়িকা সুচিত্রাসেনের পৈতিক ভিটা পাবনা শহরের হীমসাগর লেনের বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইমাম গাযযালী ট্রাস্ট দখল করে ছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০১৫ সালের দিকে বাড়িটি জেলা প্রশাসন দখল মুক্ত করে।

পরে বাড়িটি সুচিত্রাসেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করা হয়েছে। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহি বিদ্যাপীঠ খ্যাত পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের একটি ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘সুচিত্রাসেন হল’।

সুচিত্রা ছিলেন এক কন্যার জননী। সেই কন্যা মুনমুনও একজন গুণী অভিনেত্রী। সুচিত্রার দুই নাতনী রিয়া ও রাইমা সেনও নানীর মতোই অভিনয়কেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ছয় বছর ধরে সুচিত্রা সেন নেই। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কিংবদন্তি এই অভিনেত্রী।

0Shares





Related News

Comments are Closed