Main Menu

করোনা এখনো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব: ডব্লিউএইচও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রস অ্যাধানম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, করোনা ভাইরাস মহামারি প্রকট আকার ধারণ করছে। তবে তিনি এটাও বলেছেন যে এখনো এর গতি রোধ করা সম্ভব। খবর বিবিসি।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হয়। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়েছে। প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর এক লাখ রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে ৬৭ দিন। পরবর্তী এক লাখ রোগী শনাক্ত হয় ১১ দিনে। আর মাত্র চার দিনে পরের এক লাখ রোগী শনাক্ত হয়।

ডব্লিউএইচও প্রধান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে করোনা পরীক্ষার বিষয়টির ওপর প্রবলভাবে জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মি. টেড্রস বলেন, ‘আমরা কী করছি সেটাই সবচেয়ে বড়। রক্ষণাত্মক খেললে ফুটবল খেলায় জয়ী হওয়া যায় না। আক্রমণও করতে হবে।’ ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডব্লিউএইচও প্রধান । ফুটবলারদের নিয়ে ‘কিক আউট করোনাভাইরাস’ নামের এক কর্মসূচির উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ড. টেড্রস বলেন, মানুষকে ঘরে থাকতে বলা বা সামাজিক দূরত্বের মতো বিষয়গুলো এ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। তবে এসব পন্থা ট্রেডসের মতে, ‘রক্ষণাত্মক উপায় আর করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হতে এসব কাজ করবে না।’

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, ‘জিততে হলে আক্রমণাত্মক হতে হবে এবং কৌশলে ভাইরাসকে আঘাত করতে হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য কর্মীদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. টেড্রস। তিনি মনে করেন, পারসোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) না থাকার কারণেই এমনটা ঘটেছে। টেড্রস বলেন, নিরাপদে থাকলেই স্বাস্থ্য কর্মীরা তাদের কাজটা ভালোভাবে করতে পারবেন।

এছাড়া চীন থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বিশ্বে। সেখানে ভাইরাসটি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও অন্যান্য দেশে বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এতে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৬৮ জন। এ নিয়ে করোনায় সারাবিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬ হাজার ৫৫৩ জনে। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৭৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ১৩ হাজার ২৭৬ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১ হাজার ৩৪০ জনসহ আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫২১ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ২ হাজার ৪২৯ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ১৭১ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫০ জন।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৩৯ জন আক্রান্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৭ জন চিকিৎসাধীন, তাদের অবস্থা সাধারণ। ১২ হাজার ৬২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তারা সবাই আইসিউতে রয়েছেন।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহান প্রদেশে প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এই ভাইরাসটির। এর ৬৭ দিনের মাথায় এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এটি ২ লাখে পৌঁয় ১১ দিনে। সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হল ৩য় লাখে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ৪ দিন! অকল্পনীয় গতিতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এখন লকডাউন যথেষ্ট নয়।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

এ রোগের কোনো উপসর্গ যেমন জ্বর, গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাশি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জনবহুল স্থানে চলাফেরার সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাড়িঘর পরিষ্কার রাখতে হবে। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে এবং খাবার আগে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। খাবার ভালোভাবে সিদ্ধ করে খেতে হবে।

Share





Related News

Comments are Closed