Main Menu

জৈন্তাপুরে খোলা আকাশের নিচে শতশত টন ধান

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র সরকারী খাদ্য গুদামে ধারণ ক্ষমতার চাইতে ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা বেশী হওয়ায় স্থান সংকুলান করা যাচ্ছে না গুদামে। চলিত বছরে ধান সংগ্রহ করে মজুদ রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে স্থানীয় কর্মকর্তাদের।

গুদামে ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৫শ’ মেট্রিকটন। সরকার চলতি বছরে ২ হাজার ২শ’ ৬৯ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে আরোও ৪শ ৬৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, জৈন্তাপুর খাদ্য গুদামে ৬শ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় খোলা আকাশের নীচে পড়ে আছে শতশত মেট্রিক টন ধান।

খাদ্য পরির্দশক সূত্রে জানা যায়, ১ হাজার ৭শ’ ৬৮ জন কৃষকের কাছ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৬ টাকা হারে প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারন করে ১৮শ’ ১৯ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। পরর্বতীতে তা বৃদ্ধি করে ৪শ ৬৯মেট্রিক টন করা হয়।

এই বছর সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করতে উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মাইকিং ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। ধানের দাম ভালো হওয়ায় কৃষকগণ আগ্রহী হয়ে সরাসরি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে এসেছেন।

খাদ্য নিয়ন্ত্রক সিরাজদৌলা জানান, ভেতরে জায়গা না থাকায় কৃষকের ধান ওজন দিয়ে বাইরে মজুদ করে রাখা হয়েছে। গুদাম খালি হওয়ার সাথে সাথে ভেতরে নিয়ে রাখা হবে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, খাদ্য গুদামে স্থান সংকট’র বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক কৃষক গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ধান নিয়ে আসেন তাই তাদের ফিরিয়ে না দিয়ে আমরা চেষ্টা করছি ধান সংগ্রহ করতে।

তিনি আশা করে বলেন, সরকারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাহিদা অনুয়ায়ী ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। ৪শ ৬৯ মেট্রিক টন চালের পরিবর্তে ধান সংগ্রহ করার সরকারী নিদের্শনা রয়েছে।

পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত সকল কৃষকের ধান সংগ্রহ করা হবে। বৃষ্টি আসার সম্ভাবনা থাকায় খোলা আকাশের নিচে থাকা ধানগুলো নিয়ে চিন্তিত রয়েছি। কর্তপক্ষের সিদ্ধান্ত পেলে দু-এক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ৩শ’ কৃষকের নিকট থেকে ৬শ’ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিদিন এলাকার কৃষকরা ধান নিয়ে আসছে গুদামে।

খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত স্থান না হওয়ায় আমরা বারান্দায় ধান মজুদ রাখার ব্যবস্থা করেছি। ইতোমধ্যে সিলেটের একটি অটোরাইস মিলের সাথে সিদ্ধ চাউল ভাঙ্গানোর চুক্তি করা হয়েছে।

কিন্তু ১শ’ ৩৫মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করে চাল তৈরী করে পূনরায় গুদামে সরবরাহ করায়, ধান সংগ্রহে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। ধানগুলো দ্রুত স্থানান্তরিত করা না হলে আরোও মজুদ রাখা আমাদের জন্য অনেকটা কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া চলতি বছরে আরোও ১শ’ ৭১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed