Main Menu

স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে খুন, স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর দক্ষিণখানে বাসায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে নিখোঁজ গৃহকর্তা রকিব উদ্দিন ভুঁইয়া লিটনকে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, নিহত দুই শিশুর বাবা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড (বিটিসিএল) এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়াকে পাওয়া গেলে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হতে পারে।

এদিকে মৃতদেহ উদ্ধারের সময় হত্যাকাণ্ড বিষয়ে লেখা একটি ডায়েরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাতে লেখা আছে- ‘ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে খুন করা হলো। আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে।’ এটি রাকিবেরই হাতের লিখা বলে ধারণা পুলিশের।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে গৃহবধূ মুন্নি বেগমকে (৩৭) হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এরপর বড় ছেলে ফারহান উদ্দিন ভূঁইয়া (১২) ও তারপর ছোট মেয়ে লাইবা ভূঁইয়াকে (৩) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গত শুক্রবার (১৪ ফেব্রয়ারী) রাতে ওই বাসার ফ্ল্যাট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মুন্নির ভাই মুন্না রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের আসামি করে শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণখান থানায় মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেফাতার করতে পারেনি পুলিশ। মা মুন্নি, দুই শিশু ফারহান ও লাইবার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদের ময়নাতদন্ত শেষ হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক একে এম মাইনুদ্দিন বলেন, ‘তিনটি মরদেহের উপরিভাগ বেশি পচনশীল ছিল। মুন্নি বেগমের মাথার পেছনে আঘাত আছে এবং ছেলে-মেয়েদের শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। মায়ের মাথার পেছনে যে আঘাত রয়েছে তা দেখে মনে হচ্ছে হাতুড়ির মতো কিছু একটা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। তিন বছরের শিশু লাইবার গলায় আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে গলাটিপে। আর ছেলে ফারহানকে গলায় জুতার ফিতা জাতীয় রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তিন মরদেহ থেকে ভিসেরা ও রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেগুলো পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। রিপোর্ট হাতে পেলে পুরো ঘটনা জানা যাবে।’

সূত্র জানায়, পলাতক রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া বিটিসিএল-এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের ভাতশালা এলাকার আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। রাকিব ও মুন্নী সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন। ১২ বছর আগে তারা দুজন প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। তিন মাস আগে রাকিব একবার অপহরণ হয়েছিলেন। পরে অবশ্য আবার প্রকাশ্যে আসেন। কিন্তু তার অপহরণের বিষয়টিকে কেউ বিশ্বাস করতে পারেননি। বিষয়টি রহস্যজনক ছিল। সম্প্রতি তিনি বিটিসিএলের গুলশান কার্যালয় থেকে উত্তরা কার্যালয়ে বদলি হন। যে বাসায় তার স্ত্রী-সন্তানের মরদেহগুলো পাওয়া গেছে ওই বাসায় প্রায় ১০ বছর ধরে তারা বসবাস করছিলেন।

দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘এ ঘটনায় শনিবার রাতে মুন্নির বড় ভাই মুন্না রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় হত্যার সঙ্গে ভগ্নিপতি রাকিব উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

এ ব্যাপারে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘পলাতক রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়া তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে। আর্থিক লেনদেন, নেশা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। বাইরের কারও পক্ষে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়ার মতো কোনও তথ্য আমাদের কাছে নেই। পলাতক রাকিবকেই খোঁজা হচ্ছে।’

ডিএমপি পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) নাবিদ কামাল শৈবাল ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘ট্রিপল মার্ডারের রহস্য এখনও উদঘাটন হয়নি। তাদের কারা এবং কেন হত্যা করেছে- সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি। পুরো ঘটনাই এখনও অজানা। তবে রাকিব উদ্দিনকে পাওয়া গেলে বিষয়টি খোলাসা হতে পারে। তাকে আমরা খুঁজছি।’

Share





Related News

Comments are Closed