Main Menu
শিরোনাম
হবিগঞ্জে ভেজাল পণ্য জব্দ, জেল-জরিমানা         বিয়ানীবাজারে পিস্তলসহ যুবক গ্রেফতার         শাবির ল্যাবে আরও ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত         জকিগঞ্জে ১১০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩         নবীগঞ্জে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ নিহত, আহত ৩০         বালাগঞ্জে কনু মিয়ার খুনীদের গ্রেফতার দাবি         বিশ্বনাথে আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি         সিলেটে শিশু অপহরনকারী চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার         বিশ্বনাথে কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার ৩         সিলেট বিভাগে আক্রান্ত বেড়ে ৬২৮৪, মৃত্যু ১১০         জাফলং গ্রীণপার্ক থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার         সিলেটের দুই ল্যাবে ১৫০ জনের করোনা শনাক্ত        

গোয়াইনঘাটে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল ৩৩০ পরিবার

গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: পিতা হারা এতিম দুই কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে মিনারা বেগম পাকা ঘরে ঘুমাবেন, এটা তাঁর কল্পনারও অতীত ছিল। কিন্তু ঘটনা তা-ই ঘটছে।

জমি আছে, ঘর নেই—এমন মানুষদের টিনের ঘর করে দেওয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। কিন্তু টিনের ঘরের বরাদ্দের সাথে নিজের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আধা পাকা ঘর করে দিচ্ছেন সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল।

তাঁর এই উদ্যোগের ফলে মানুষ যেমন ভালো ঘর পাচ্ছে, তেমনি সরকারি টাকার সদ্ব্যবহার প্রশংসিত হচ্ছে এলাকায়। এই প্রক্রিয়ায় মিনারার মতো তালিকাভুক্ত ৩০টি দরিদ্র পরিবারই আধা পাকা ঘর পাচ্ছে এই ইউনিয়নে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ঘর তৈরির কাজ শেষ হয়ে গেছে।

চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে এক লাখ ৭০ হাজার গরিবকে ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এক লাখ ১৫ হাজার ঘর তৈরি হয়ে গেছে। প্রকল্পের আওতায় নন্দীরগাও ইউনিয়নে ৩০টি ঘরের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। অর্থাৎ প্রতিটি ঘরের জন্য বরাদ্দ এক লাখ টাকা। এই টাকা দিয়েই স্থানীয় প্রশাসন নির্দেশিত টিনের ঘরের বদলে আধা পাকা ঘর করে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্র জানায়, সরকারিভাবে প্রতিটি ঘরের মাপ দেওয়া হয়েছে সাড়ে ১৬ ফুট লম্বা আর সাড়ে ১০ ফুট চওড়া। সঙ্গে ৫ ফুটের একটি বারান্দা ও একটি বাথরুম। পাকা ভিটির ওপর টিনের বেড়া ও টিনের ছাউনি থাকবে।

নন্দীরগাওঁ ইউপি সচিব কামরুল হাসান জানান, বরাদ্দের টাকা আসার পর চেয়ারম্যান তাঁকে ও ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যদের নিয়ে আলোচনা করেন। কীভাবে ঘরগুলো ভালোভাবে করা যায়, তার পরিকল্পনা করেন। ঠিকাদার বা অন্য কারও মাধ্যমে ঘরগুলো তৈরি করলে সব অর্থ ব্যয় করেও ভালো ঘর পাওয়া নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ অবস্থায় নকশা অনুযায়ী টিনের ঘর তৈরি করতে তাঁরা স্থানীয়ভাবে একটি বাজেট তৈরি করেন।

তাতে দেখা যায়, স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করলেও টিনের ঘর তৈরিতে তাঁদের ব্যয় দাঁড়াচ্ছিল এলাকাভেদে ৯৯ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা।; তখন সাবেক ইউএনও বিশ্বজিতের সাথে পরামর্শক্রমে আধা পাকা ঘর তৈরি করতে শুরু করেন।, তারা একটা পৃথক বাজেট করতে বলেন। দেখা যায়, স্থানভেদে কোনোটিতে ১ লাখ ১ হাজার থেকে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেশি লাগছে। আবার কোনোটিতে ১ লাখ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা কম লাগছে। উপজেলা শহর থেকে গ্রামের দূরত্বের ওপর নির্ভর করে এই কমবেশি খরচ আসছে।

ইউপি সচিব কামরুল হাসান জানান এই বাজেট দেখে চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত দেন, তাঁরা সব ঘর পাকা করবেন। দরিদ্র মানুষ আধা পাকা ঘর পাবে। এটা তাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি করবে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের এই প্রস্তাবে তিনি রাজি হতে চাননি। কারণ, এতে মূল নকশা পরিবর্তন করতে হবে। তারপরও ইউএনও পাকা ঘর নির্মাণে জোর দেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেন। তারপর শুরু হয়ে যায় তাঁদের কর্মযজ্ঞ।

গত বছরের অক্টোবর মাসে শুরু হয় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩২৪টি আর নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নে ৩০টি ঘর তৈরির কাজ। গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ জানান নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল একটা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি টাকা যথেচ্ছ খরচ করা বা বাঁচানোর চেষ্টা না করে তিনি এর সঠিক ব্যবহার করেছেন। এতে গরিব মানুষগুলো উপকৃত হয়েছে। আমি নিজেই এই কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এখন অন্যরাও ভাবতে শুরু করেছেন, ইচ্ছা থাকলে সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার করে সমাজকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া সম্ভব।

নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের মিনা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী দিনমজুর। হাজার চেষ্টা করেও পাকা ঘরে ঘুমানোর সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। মাত্র দুই শতক জমির ওপর বেড়ার ঘরে দুই মেয়ে, ৪ ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন তাঁরা। শীতে বেড়ার ঘরে অনেক কষ্ট হতো। তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি সামনের সপ্তাহে পাকা ঘরে ঘুমাব।’

নন্দীরগাওঁ ইউনিয়নের আঙ্গারজুর গ্রামের ভানু বিবি জানান, মাত্র তিন শতক জমির ওপর পাটখড়ির বেড়ার ঘর ছিল তাঁদের। এখন ইট দিয়ে পাকা ঘর করে দিয়েছে সরকার। সেই ঘরে তাঁরা ঘুমাচ্ছেন।

একই গ্রামের আয়শা খাতুন বলেন, ‘টিনের বেড়া দিয়ে ঘর তৈরি করে দিলে পাকা ঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেত। এ জীবনে হয়তো তা আর পূরণ হতো না। ঘরও কয়েক বছর পর নষ্ট হতো। এখন স্থায়ী একটি ঘর পেয়েছি।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব বলেন, জমি আছে গৃহ নেই, নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধীকার প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যায়ে ৩৩০ ঘর নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধুমাত্র নন্দীরগাওঁ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল তার ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ৩০ লাখ টাকা দিয়ে টিনের ঘরের পরিবর্তে আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। বাকি ৯ টি ইউনিয়নের ঘর গুলোকে প্রকল্পের ডিজাইনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

0Shares





Related News

Comments are Closed