Main Menu

বড়লেখায় স্ত্রী-শাশুড়িসহ ৪ জনকে হত্যা করে ঘাতকের আত্মহত্যা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করে ঘাতক আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের দূর্গম এলাকা পাল্লাতল চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নির্মল কর্মকার (৪০) নামে ওই ঘাতক প্রথমে তার স্ত্রী জলিকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এরপর তাকে ঠেকাতে আসলে প্রথমে শাশুড়িকে এবং পরে দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনাস্থলে চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হলে খুনি ঘরে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্মল নামে ওই যুবক চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। নির্মল ছাড়া চারজনই চা বাগানের শ্রমিক।

বড়লেখা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রোকসানা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত খুনি নির্মল মাদকাসক্ত ছিলেন।

হত্যার শিকার চারজন হলেন, নির্মলের স্ত্রী জলি ব্যানার্জি (৩৫), তার শাশুড়ি লক্ষ্মী ব্যানার্জি (৫০), প্রতিবেশি বসন্ত ভৌমিক (৫৫) এবং বসন্তের মেয়ে শিউলি ভৌমিক (১৬)। নিহতরা পাল্লাতল এলাকায় চা শ্রমিকের কাজ করতেন।

এ ছাড়া নির্মলের দায়ের কোপে গুরুতর আহত হয় বসন্ত ভৌমিকের স্ত্রী কানন ভৌমিককে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানায়, পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দেশীয় ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নির্মলের বাড়ি এই এলাকায় নয়। বছর খানিক আগে জলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারপর থেকে তিনি শ্বশুর বাড়িতেই থাকছিলেন।

প্রতিবেশীরা জানান, ভোর ৫টার দিকে নির্মল ও ডলির মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ডলিকে মারধর করতে থাকলে ডলি দৌড়ে অন্য ঘরে বাবা মায়ের কাছে চলে গেলে নির্মল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডলিকে কোপাতে থাকে। মেয়েকে রক্ষা করতে শাশুড়ি ছুটে আসলে তাকেও কোপায় নির্মল। এরপর বসন্ত ও শিউলি সেখানে আসলে দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নির্মল। পরে চারজনের মৃত্যু হলে নির্মল ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুখ আহমদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে। পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন যতটা জেনেছি ঘাতক নিজেও আত্মহত্যা করেছে। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি, বিস্তারিত স্পটে গিয়ে জানা যাবে।

Share





Related News

Comments are Closed