Main Menu

সিলেটে এবার লবণ নিয়ে গুজব!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে দিনভর পেঁয়াজ নিয়ে হুলস্থূলের পর সন্ধ্যায় লবণ নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থল। সোমবার সন্ধ্যা থেকে লবণের দাম বেড়ে যাচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে সিলেট জুড়ে। এমন খবরে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন নগরীর ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোতে। বাড়তি চাপে নিমিষেই ফুরিয়ে যায় নগরীর বিভিন্ন দোকানের লবণের স্টক। আবার অনেক ব্যবসায়ী বেশি দামে বিক্রির জন্য লবণ মজুদ করে রাখেন বলেও অভিযোগ ওঠেছে।

সিলেট নগরী ছাড়াও পুরো জেলাজুড়ে লবণ নিয়ে চলছে এই লঙ্কাকাণ্ড। প্রশাসন বলছে, লবণের দাম বৃদ্ধির খবর পুরোটাই গুজব। কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াতে পারে।

ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, লবণের চাহিদামাফিক সরবরাহ আছে। শীঘ্রই দাম বাড়ার শঙ্কা নেই।

তবে ব্যবসায়ীরা এমনটি দাবি করলেও সোমবার রাতেই অনেক দোকানে বাড়তি দামে লবণ বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুজবকে কেন্দ্র করে এই হুলস্থূলের প্রেক্ষিতে সোমবার সন্ধ্যায় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন। নিজের ফেসবুকে পুলিশ সুপার লিখেন-

‘প্রিয় সিলেটবাসী, বাজারে নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোন নিত্য-প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়তে পারে এমন গুজবে কান না দেয়ার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

সোমবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লবণ কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। বেশিরভাগ মুদি দোকানেরই মজুদ ফুরিয়ে গেছে। দোকানে লবণ না পেয়ে ক্রেতারা আক্রমণাত্মক আচরণ করতেও দেখা গেছে।

সব ক্রেতারই দাবি, লবণের দাম বাড়তে যাচ্ছে এমন খবর শুনেছেন। তাই লবণ কিনতে এসেছেন তারা। তবে কোথায় এমন সংবাদ শুনেছেন একথা কেউ বলতে পারেননি।

সুপারশপ স্বপ্ন’র হাউজিং এস্টেট শাখার ব্যবস্থাপক নাহিদ তারানা চৌধুরী বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ক্রেতারা লবণ কিনতে ভিড় করেন। একেক জন ৪/৫ কেজি করে লবণ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে লবণের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। আমরা নির্ধারিত দামেই ক্রেতাদের লবণ বিক্রি করছি। লবণের দাম দ্রুত বাড়ার শঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি।

তবে স্বপ্ন’র জিন্দাবাজার শাখার এক কর্মী বলেন, সন্ধ্যার পরই তাদের লবণের স্টক শেষ হয়ে গেছে।

দক্ষিণ সুরমার গোটাটিকরের মুদি দোকানি কয়েছ উদ্দিন কুটি বলেন, সন্ধ্যার পর আচমকা কেবল লবন কেনার জন্য ক্রেতারা এসে দোকানে ভিড় করতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই আমার দোকানের সব লবণ শেষ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. জেদান আল মূসা লবণ নিয়ে গুজবে সারা না দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে পুলিশ সর্তক অবস্থায় আছে। লবণ নিয়ে যারা গুজব রটাবের তাদের বিরুদ্ধে কঠিন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সিলেটে লবণ ভর্তি দুটি ভ্যান জব্দ করেছে এনএসআইর প্রতিনিধি দল। সোমবার (১৮ নভেম্বর) সিলেট নগরীর কালীঘাট এলাকা থেকে বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় ৫০ বস্তা লবণ জব্দ করা হয়। এসময় দুই ভ্যান চালককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ২১৬ টাকা বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান সদর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন্ত ব্যানার্জি।

এসময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কালীঘাটের ব্যবসায়ীদের আজ (সোমবার) আর কোন লবণ খুচরা বাজারে বিক্রি না করার জন্য বলা হয়।

লবণের দাম বাড়ছে গুজব শুনে সোমবার সন্ধ্যা থেকে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিলেট নগরীর ভোগ্যপণ্যের দোকানগুলোতে। যার ফলে নিমিষেই ফুরিয়ে যায় নগরীর বিভিন্ন দোকানের লবণের স্টক। তাই লবণ মজুদ করার জন্য নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কালীঘাটে এসে লবণ কেনা শুরু করেন। লবণ নিয়ে এই গুজব শুনে বাজার মনিটরিংয়ে আসে এনএসআইর প্রতিনিধি দল। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাজিস্ট্রেট মো. মেসবাহ উদ্দিন ও সদর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন্ত ব্যানার্জি ও এন এস আই সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলার এসিল্যান্ড সুমন্ত ব্যানার্জি বলেন অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রির খবর পেয়ে আমরা কালীঘাটে অভিযানে আসি। এসময় লবণ ভর্তি ২টি ভ্যানসহ প্রায় ৫০ বস্তা লবণ জব্দ করা হয়েছে। ২ ভ্যান চালককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ২ ব্যবসায়ীকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা প্রতি বস্তা ২১৬ টাকা বেশি দামে লবণ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত লবণ সিলেট কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপরদিকে, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব ছড়িয়ে মুনাফা লুটার চেষ্টা করছেন এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এ সংক্রান্ত সংবাদে সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে বড়লেখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নামে। অতিরিক্ত দামে লবণসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও মূল্য তালিকা না টাঙানোর অপরাধে উপজেলার সাতটি দোকানের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে লবণের দাম বাড়ার কথা শুনে সকাল থেকে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে লবণ কেনার চেষ্টা করেছেন। তবে সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত লবণ মজুদ আছে। লবণের দাম বাড়ার বিষয়টি গুজব।

সোমবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের কাঠালতলি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস শুক্কুরকে ১০ হাজার টাকা, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের রতুলি বাজারের কাউছার ভেরাইটিজ স্টোরকে ৫ হাজার, অজিত ভেরাইটিজ স্টোরকে ৫ হাজার ও শ্রী-দুর্গা ভেরাইটিজ স্টোরকে ৫ হাজার এবং সুজানগর ইউনিয়নের আজিমগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনকে ৫ হাজার, ইমন ভেরাইটিজ স্টোরকে ৫ হাজার এবং বিষাণ ভেরাইটিজ স্টোরকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেন বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম মো. শামীম আল ইমরান।

খোরশেদ আলম নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘সন্ধ্যায় হঠাৎ বাসা থেকে স্ত্রী ফোন করেছেন। বলেছেন মানুষ বলাবলি করছে লবণের দাম অনেক বেড়েছে। বেশি করে লবণ কিনতে।’

এরকম কথা জানালেন কামাল আহমদ নামে মুঠোফোনের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘লবণ নিয়ে সারাদিন হুলস্থূল কাণ্ড হয়েছে। গ্রামের দোকানগুলোতে ৭০ থেকে ৮০টাকায় বিক্রির খবর পেয়েছি।’ সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মাছুমও জানালেন এমন কথা।

মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ নামের এক এনজিও প্রতিনিধি জানিয়েছেন, লবণের দাম বাড়ার গুজবে অনেককে বেশি বেশি করে লবণ কিনতে দেখেছি। মানুষের সচেতনতা দরকার।

বড়লেখা হাজীগঞ্জ বাজারের মুদি (ভুষিমাল) ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. ছয়দুল ইসলাম বলেন, ‘বড়লেখায় লবণের কোনো সংকট নেই। সকাল থেকে একটি কুচক্রী মহল লবণের দাম বাড়ার কথা প্রচার করে। এ গুজবে সাধারণ মানুষ লবণ কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। আমরা মানুষকে বুঝানোর চেষ্টা করেছি। পৌর মেয়র ও প্রশাসনের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছি। মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) হাজীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ সংক্রান্তে মাইকিং করানো হবে। ক্রেতা সাধারণকে এইসব গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করছি। হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন দোকানীর সাথে কথা হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে না।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী হাকিম মো. শামীম আল ইমরান সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘লবণসহ বিভিন্ন পণ্যে অতিরিক্ত দাম রাখা ও মূল্য তালিকা না থাকায় বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

0Shares





Related News

Comments are Closed