Main Menu

মামলার বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের রোষানলে তাজুল

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মামলার বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের প্রবাসী রহিম উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরিপুর ইউনিয়নের নতুন সুনামপুর গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের পুত্র তাজুল ইসলাম। তিনি বিগত প্রায় ১৮/১৯ বছর ধরে ওসমানীনগর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী রহিম আলীর বাড়িতে কেয়ার টেকারের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

তাজুল ইসলাম জানান, তিনি কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তার মাধ্যমে প্রবাসী রহিম আলীর বিনিযোগের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আয় উন্নতি ঘটতে থাকে। মনোহর আলীর সৎ ভাতিজা রকিব আলীর নজরে বিষয়টি এলে তিনি তাকে সরিয়ে নিজেই কেয়ারটেকারের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। সেই লক্ষে গত মে মাসের গোড়ার দিকে রকিব আলী তার চাচা প্রবাসী রহিম আলীকে ফোন করে জানান, কেয়ারটেকার ঠিক মতো সবকিছু দেখে রাখতে পারছেনা। এ সময় হোয়াটসঅ্যাপে কয়েকটি জাল মেমো’র কপি রহিম আলী সাহেবের কাছে পাঠিয়ে বলেন, আমি রহিম আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না দিয়ে আমার নিজের নামের অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছি। এটা বলে রকিব আলী তাকে কেয়ারটেকারের দায়িত্ব দিয়ে আমাকে বিদায় করে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু রহিম আলী এর সত্যতা না পেয়ে তাতে সম্মত হননি। যে কারনে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন রকিব আলী।

তাজুল অভিযোগ করেন, এরপর রকিব আলী তার দলবল নিয়ে গত মে মাসের ২০, ২১ ও ২৬ তারিখে তাজুল ইলামের উপর কয়েক দফা হামলা করে মারধোর এবং বেঁধে রেখে গলায় ছুরি ধরে গরু ও মাছ বিক্রির নগদ ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ঘরে রক্ষিত ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকার দেড়শত মন ধান এবং ৩ লক্ষ টাকা মুল্যের ষাড় ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের গাভি ও বাছুর, ৪৮ হাজার টাকা মূল্যের দেশী মোরগ এবং ফিসারী থেকে ১ লক্ষ টাকার মাছ নিয়ে যান। সব মিলিয়ে আনুমানিক ৯ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদ চুরি ও লুট করে নেন তারা। এ সময় রকিব আলীর সঙ্গে ছিলো ছুরক আলী, রোমন আলী, মিছির আলী, ফয়সল মিয়া ও মনোহর আলী। এছাড়া রহিম আলীর একটি মোদির দোকান আমার ভাতিজা চালাতো। তারা সেই দোকানেরও চাবি ছিনিয়ে নিয়ে মালামাল সরিয়ে নেন। রকিব আলী ও তার দলবল প্রাণে মারার হুমকি দিলে তাজুল নিরাপত্তার অভাববোধ করেন এবং তার নিজ বাড়িতে চলে যান। তিনি চলে যাওয়ার সুযোগে রকিব আলীরা রহিম আলীর ঘরে থাকা দামি ক্যামেরাসহ মুল্যবান জিনিস পত্র লুটপাট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

পরবর্তীতে প্রবাসী রহিম আলী দেশে ফিরলে তার পরামর্শ নিয়েই তাজুল নিজে বাদি হয়ে গত ৩০ আগস্ট ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা (নম্বর ১৪) দায়ের করেন। এই মামলার সুত্রধরে পুলিশ ৬ আসামীকে গ্রেফতার করে এবং ১ নম্বর আসামী রকিব আলী এবং ৩ নম্বর আসামী রোমন আলী ছাড়া বাকিরা জামিনে মুক্ত রয়েছে।

তাজুল বলেন, গ্রেফতার হওয়া রকিব আলী ও তার সহযোগীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদেরই দেখানো স্থান থেকে ঘটনায় ব্যবহৃত ছোরাসহ চুরি যাওয়া ধানের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া পুলিশ মুল্যবান ক্যামেরাসহ অন্যান্য লুন্ঠিত মালামাল কোথায় আছে তা জানতে পেরেছে। খুব দ্রত এ সকল মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হবে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাজুল আরো বলেন, গত ৩০ অক্টোবর ওসমানীনগরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মূল ঘটনাকে আড়াল করে প্রবাসী রহিম আলীর ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে মিথ্যে বানোয়াট তথ্য তুলে ধরেছেন তারই সৎ ভাই মো. মনোহর আলী। মনোহর আলী বলেছেন প্রবাসী রহিম আলী নাকি বহু বিবাহ করেছেন। ৬/৭ বছর আগে পাশের বাড়ির এক মেয়েকে বিয়ে করতে চাইলে পরিবারের লোকজন আপত্তি দিলে নাকি তিনি ক্ষিপ্ত হন। এবং তারপর মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেন। মনোহর আলীর এ অভিযোগ সঠিক নয়-পুরোপুরি বানোয়াট।

তাজুলের জানামতো রহিম আলীর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু হলে তিনি তার প্রথম স্ত্রীর এক মামাতো বোনকে বিয়ে করে এখনও তার সঙ্গে ঘর সংসার করছেন। মনোহর আলী আরো অভিযোগ করেছেন প্রবাসী রহিম আলী নাকি তার বাড়ির রাস্তা ও পানির লাইন বন্ধ করে দিয়েছেন। এটাও সম্পূর্ণ মিথ্যে। কারণ ঘটনার পর থেকে আমি বাড়ির কেয়ার টেকার নিজের বাড়িতে চলে গেছি। তাহলে রাস্তা বন্ধ করবে কে। তিনি বলেন, তারা নিজেরাই নিজেদের রাস্তাবন্ধ করে দিয়েছে। তাছাড়া রহিম আলীর সঙ্গে যখন মনোহর আলীর ভালো সম্পর্ক ছিলো তখন তিনি ভাইকে একটি পানির মটর দিয়েছিলেন। সেটা দিয়েই এখন মনোহর আলী পাশের বাড়ি থেকে পানি আনছেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকরা প্রয়োজনে সরেজমিন গেলে সত্যতা দেখতে পাবেন। মামলা দায়ের করায় আসামীদের রোষানলে পড়েছেন উল্লেখ করে তাজুল বলেন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি। জামিনে মুক্ত হয়ে আসামীরা আমাকে নিজ বাড়ি থেকে ধরে নেয়ার হুমকিও দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার আলী, আইয়ুব আলী, তৈয়ব আলী, শমসের আলী, ছুরাব আলী, আব্দুল হান্নান, আনোয়ার আলী (২), সাহাব উদ্দিন, আনসার আলী, আরশাদ আলী, আক্কাস আলী, জুবের আলী, আব্দুল আলী, আনা মিয়া, মামুন মিয়া, আব্দুল নুর, আব্দুল তাহিদ, আছাদ উদ্দিন প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed