Main Menu
শিরোনাম
শ্বনাথে শিক্ষিকার আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা         সিলেট জেলায় আরও ৪৬ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে পরিবহন নেতা ফলিক বহিষ্কার         ছাতকে রেলওয়ের নৈশপ্রহরী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩         শাবির ল্যাবে আরো ৩৮ জনের করোনা শনাক্ত         জগন্নাথপুরে তরুণীকে গনধর্ষণ, আটক ৪         কোম্পানীগঞ্জ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড         গোলাপগঞ্জে ভাদেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত         সিলেট বিভাগে আক্রান্ত বেড়ে ৫৫৭৩, মৃত্যু ৯৫         চুনারুঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জরিমানা         জৈন্তাপুরে ৯৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২         শায়েস্তাগঞ্জে ইউএনও করোনায় আক্রান্ত        

অবশেষে বিশ্বনাথ পৌরসভা অনুমোদন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ পৌরসভায় উন্নীত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে পুরণ হলো উপজেলাবাসীর বজুল প্রত্যাশিত স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (২১ অক্টোবর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

এদিকে, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পৌরসভা ঘোষণার সংবাদ সর্বত্র ছড়িয় পড়লে বিশ্বনাথ উপজেলাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে আনন্দের বন্যা।

ধনেজনে সিলেটের শীর্ষজনপদের একটি প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলা। সিলেটের কয়েকটি উপজেলা দীর্ঘদিন আগে পৌরসভায় উন্নীত হলেও সিলেট শহরের নিকটবর্তী উপজেলা হয়েও এতকাল অবেহেলিত থেকে বিশ্বনাথ। ১৯৯৬ সালে স্থানীয়রা বিশ্বনাথ পৌরসভা বাস্থবায়ন কমিটি গঠন করে আন্দোলন শুরু করেন। পৌরসভার দাবিতে তখন একাধিক সভা-সমাবেশ সহ সরকারের উপর মহলে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আযাদ বিশ্বনাথকে পৌরসভা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই সময় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় বিশ্বনাথকে পৌরসভায় রূপান্তর করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০০ সালেই মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে সীমানা নির্ধারণ, প্রশাসনিক কার্যক্রমের আনুষাঙ্গিক রোডম্যাপ তৈরী সহ বিভিন্ন বিষয়াদি গুছিয়ে আনা হয়। তৎকালীন সংসদ সদস্য শাহ আজিজুর রহমান এক অনুষ্ঠানে দৃঢ়চিত্তে বলেছিলেন এসরকারের আমলেই বিশ্বনাথকে পৌরসভায় রূপান্তর করা হবে। অবশ্য তার ঘোষণা পর্যন্তই থেমে পড়েছিল এটি।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের মনোনিত প্রার্থী এম ইলিয়াস আলী একাধিক জনসভায় পৌরসভাকে নির্বাচনী ইস্যু করে নির্বাচিত হলে পরবর্তীতে তিনিও এ প্রতিতশ্রুতি অন্যদের মতো ভূলে যান। সেই সময়ে সিলেটের গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, কানাইঘাট পৌরসভায় উন্নীত হলেও বিশ্বনাথ থেকে যায় অবহেলিত।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরীও চেষ্টা করেন বিশ্বনাথকে পৌরসভায় উন্নীত করার।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির ইয়াহ্ইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি নির্বাচিত হয়ে পৌসভার ঘোষণার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে পূর্বের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়ার অনুরোধে পুনরায় খসড়া প্রস্তাব তৈরী করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। ওই খসড়া প্রস্তাবে স্থানীয় সরকারের আইনে পৌরসভার জন্য যে প্রয়োজনীয় সুবিধা সমূহ থাকার কথা রয়েছে, তার প্রায় সবকয়টি প্রবাসী অধ্যুষিত প্রস্তাবিত বিশ্বনাথ পৌরসভায় বিদ্যমান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব কাজ সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য ফাইল উপযোগী করে পাঠানো হলেও ফাইলে ক্রুতি থাকায় তখন পৌরসভা ঘোষণা হয়নি।

একপর্যায়ে ২০১৭ সালে বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেন ইয়াহইয়া চৌধুরী। তখন তিনি খসড়া প্রস্তাবনার ফাইলটি ক্রুতি মুক্ত করে যা যা করণীয় তা করে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় প্রস্তাবনা প্রেরণ করতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলেন। তখন স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব কাজ সম্পন্ন করে অনুমোদনের জন্য উপযোগী করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পুনরায় ফাইল পাঠানো হয়। ওই খসড়া প্রস্তাবনায় পৌরসভা এলাকার ভিতরে প্রায় ৫০ হাজার জনশক্তি বসবাসের ভিত্তিত্বে চিহিৃত করা হয় সীমানা।

এরপর পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর-২ থেকে বিশ্বনাথকে ‘শহর’ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ গেজেট রেজিস্টার নং ডি এ-১ প্রকাশিত বিশ্বনাথ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ২২টি মৌজা নিয়ে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়। মৌজাগুলো হলো- বিশ্বনাথ ইউনিয়ের আহমদাবাদ মৌজা, পূর্ব জানাইয়া মৌজা, বিদাইলসুপানি মৌজা, কানাইপুর মৌজা, মজলিস ভোগশাইল মৌজা, চান্দসিরকাপন মৌজা, মিরেরচর মৌজা, মশুল্লা মৌজা, সেনারগাঁও মৌজা, ধোপাখোলা মৌজা, তাজপুর মৌজা। দেওকলস ইউনিয়নের আলাপুর মৌজা, ধোপাখোলা মৌজা, দত্তা, অলংকারী ইউনিয়নের পূর্ব জানাইয়া, কামালপুর, ভাগমতপুর, অলংকারী, দৌলতপুর ইউনিয়নের দূযার্কাপন, চরচন্ডি ও রামপাশা ইউনিয়নের পশ্চিম জানাইয়া, মশুল্লা।

পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সচিব কমিটির সভা, মন্ত্রীপরিষদ সভায় অনুমোদন হয় এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় অনুমোদনের অপক্ষোয় থাকে। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে গতকাল সোমবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় বিশ্বনাথ পৌরসভার অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

0Shares





Related News

Comments are Closed