Main Menu

পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে আমাজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ খ্যাত বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেইনফরেস্ট আমাজন জঙ্গল পুড়ে যাচ্ছে ভয়াবহ আগুনে। গেল এক সপ্তাহে আমাজনে ১০ হাজার বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দাবানলে বনের ঠিক মাঝখানে বিশাল অংশ জুড়ে বৃত্তকার হয়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে আগুন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর অভিযোগ, ব্রাজিলের ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো আগুন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।

গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আমাজনের রেনফরেস্টেই জ্বলছে। তবে গণমাধ্যমে গত বুধবার প্রথম এমন খবর প্রকাশ হয়।

ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট আমাজনে আগুন লাগার ঘটনায় উল্টো পরিবেশ রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ি করে বলছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার কারণে ইচ্ছে করেই তারা আমাজনে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।

বিশাল এই আগুন আর ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে আমাজনের আশপাশের এলাকাগুলো অন্ধকার নগরীতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। গভীর এই জঙ্গল থেকে আড়াই হাজারেরও বেশি দূরে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহর ধোঁয়ার চাদরে ঢেকে গেছে।

এ ব্যাপারে ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে)’র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এ বছরের প্রথম ৮ মাসে আমাজনে ৭৫ হাজারের বেশি দাবানলের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় আগুন লাগার ঘটনা ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে থাকা অক্সিজেনের ২০ শতাংশ আসে আমাজন থেকে। এই জঙ্গল প্রচুর পরিমাণ কার্বন ধরে রেখে বৈশ্বিক উষ্ণতাকে কিছুটা কমিয়ে রেখেছে। কিন্তু আগুনে দিন দিন যেভাবে আমাজনের বনাঞ্চল পুড়ছে তাতে বিশ্ব জলবায়ুর ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পরিবেশবাদীরাও।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে আমাজনকে পৃথিবীর জীবনীশক্তি বলে উল্লেখ করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে মহাকাশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা নাসা, রাজনীতিবিদ ও বিশ্ব তারকারা আমাজনের দাবানলের ছবি শেয়ার করার পর থেকে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ প্রে ফর আমাজন’ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে।

Share





Related News

Comments are Closed