Main Menu

বালাগঞ্জে নদীতে চামড়া ফেলে প্রতিবাদ!

ওসমানীণগর প্রতিনিধি: কুরবানীর চামড়া কিনার লোক না পেয়ে সিলেটের ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জ উপজেলার কুরবানীকৃত পশুর চামড়া নদীতে পেলে প্রতিবাদ করেছেন দুই উপজলার মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। একদিন একরাত অপেক্ষা করে কোন টেনারী বা পাইকার ক্রেতা না পেয়ে তারা চামড়া নদীতে ফেলে দেন।

জানা যায়, ওসমানীনগর ও বালাগঞ্জের মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক সারা দিন কুরবানীর চামড়া সংগ্রহ করেন। আবার কিছু লোক লাভের আশায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া ক্রয় করেন। বিকেলে গোয়ালাবাজার, শেরপুর, দয়ামীর তাজপুর ও বালাগঞ্জ বাজারে চামড়া নিয়ে গেলে সেখানে কোন পাইকার আসেনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে তারা ক্ষোভে কুশিয়ারা নদী, কালাসার হাওরসহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে যায়।

বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ ফিরোজাবাগ মাদরাসা ১১৯টি চামড়া, বালাগঞ্জ মহিলা মাদরাসা ১০০টি, তিলকচানপুর আদিত্যপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ৩৪টি, নতুন সুনামপুর মাদাসা ৭০টি ও দক্ষিণ গৌরীপুর মাদরাসায় ২৭টি চামড়া নদীতে ফেলে দেয়ার খবর পাওয়া যায়।

এদিকে ওসমানীনগর উপজেলায়ও তেমনি সংবাদ পাওয়া যায়। দুটি উপজেলার মিলনস্থল ব্যবসায়িক প্রাণ কেন্দ্র গোয়ালাবাজার। কুরবানীরদিন বিকেলে সহস্রাধিক কুরবানীর চামড়া নিয়ে আসলেও সারা রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখা মিলেনি কোন ক্রেতার! বাধ্য হয়ে তারা চামড়া ফেলে যায়। অন্য দিকে চামড়া পচে সর্বত্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

চামড়া কিনার লোক না আসায় দুই উপজেলার মাদারাসার এতিম গরীব শিক্ষার্থীদের অপুরনীয় ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ। অন্য দিকে খুচরা ব্যবসায়িরাও ক্ষতির শিকার হয়েছেন।

ওসমনীনগরের খুচরা ব্যবসায়ি সুলতান মিয়া জানান, লাভের আশায় প্রতি বছরের মত এবারও গ্রামে গ্রামে গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু কোন ক্রেতা না আশায় আমরা হতাশ হয়েছি। আমার মত অনেক লোকের সীমাহীন ক্ষতি হয়েছে। আমারা মর্মাহত ক্ষুব্ধ। কাচামাল কতক্ষণ রাখবো! মাল ফেলে দিয়েছি।

ফিরোজাবাগ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল মালিক ও মহিলা মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা আব্দুল বাতিন বলেন, কুরবানীর পশুর চামড়া মাদরাসার রাস্থায় রাখা হয়েছে। কোন ক্রেতা নেই। এলাকা বাসী দুঃখ প্রকাশ করছে বাসা বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না দুর্গন্ধে। এমতাবস্থায় মাটিতে পুঁতার জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই।

এ ব্যাপারে বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যন মো. আব্দুল মুনিম বলেন, মাদাসার শিক্ষকরা আমাকে জানালে আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবগত করেছি।

বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল সাকিব বলেন বিষয়টি আমি ব্যক্তিগতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

0Shares





Related News

Comments are Closed