Main Menu

সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতার করছেনা পুলিশ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে চারটি চেক ডিজঅনার মামলায় সাজা, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী হওয়ার পরও এক সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করছেনা বলে অভিযোগ করেছেন এক ব্যবসায়ী।

সোমবার (৬ মে) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বারকোট গ্রামের মো. দৌলা মিয়ার ছেলে আব্দুস সামাদ। তিনি পেশায় একজন রেডিমেইড পোষাক ও পোল্ট্রি ব্যবসায়ী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন- সিলেট নগরের মজুমদারী কমলাবাগানের ১০৫নং বাসার বাসিন্দা এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার রানাপিং গ্রামের মোস্তফা জামালের ছেলে মুহিজুল মোস্তফার সাথে আত্মীয়তার সূত্রে তার সুসম্পর্ক ছিলো। তিনি মুহিজুলকে বিশ্বাস করার সুবাদে তার সাথে ব্যবসা করার চিন্তা করেন এবং সেই সুযোগে মুহিজুল তার কাছ থেকে নানা ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে একে একে ৯১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাত করে। এই টাকা দিয়ে সে ৯টি ভাউচার ট্রাক কিনে। টাকা নেয়ার বিনিময়ে সে বিশ্বস্থতা রক্ষার জন্য ৮২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকার চেক প্রদান করে এবং স্টাম্পে স্বাক্ষর করে ৯ লক্ষ টাকা নগদ নেয়। কথা ছিলো তার যেসব ব্যবসা রয়েছে সেগুলোতে আমাকে শরিক করবে, আরো গাড়ি নামাবে। আরো ব্যবসা স¤প্রসারণ করবে। কিন্তু তা না করে মুহিজুল আমার সাথে প্রতারণা করে। এরপর ২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বার বার তার কাছে টাকা চাইলেও সে টাকা ফেরত দেয়নি।

তিনি বলেন- তার পরিবারের কাছে এবং সিলেটের পরিবহন নেতাদের দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টি জানানোর পরও কোন সুরাহা না হওয়ায় তিনি আইনের আশ্রয় নেন। মুহিজুলের দেয়া প্রতিটি চেক ডিজঅনার হওয়ায় তিনি আদালতে পর পর পাঁচটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর দায়রা ৭০৩/১৬, দায়রা ৯৪৪/১৬, দায়রা ১০৩৫/১৬, দায়রা ১০৫৩/১৬, দায়রা ১৮৮/১৭। ইতোমধ্যে আদালত চারটি মামলার রায় দিয়েছেন। যাতে মুহিজুলের প্রতারণার বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে এবং রায়ে টাকা ফেরত প্রদানের আদেশ ও সাজাসহ জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৬ ও ১৭ সালের বিভিন্ন তারিখে এসব মামলার রায়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করা হয়। কিন্তু, আজ পর্যন্ত সে গ্রেফতার হয়নি। আদালতের নির্দেশ মতো টাকাও ফেরত দেননি।

তিনি আরো বলেন- মুহিজুলকে প্রায়ই দক্ষিণ সুরমা থানার লাউয়াইয়ের ওয়াজেদ আলী পেট্রোল পাম্পে বসে ব্যবসা করতে দেখা যায়। রানাপিংয়ে তার বাড়িতে নির্মাণ কাজ তদারকি করতেও দেখা যায়। সবখানে গাড়ি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই সে চলাচল করে। কিন্তু পুলিশ তার সন্ধান পায় না, যা সত্যিই আশ্চর্যজনক।

আব্দুস সামাদ বলেন- এসব মামলা চলাকালীন সময়ে ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই দুপুর দেড়টায় মুহিজুল আদালত পাড়ার কাছ থেকে আমাকে সন্ত্রাসী দিয়ে অপহরণের চেষ্টা করে। আদালতে আর না আসার জন্য হুমকীও দেয়। কিন্তু আমি জীবনের ঝুকি নিয়ে দিনের পর দিন আদালতে মামলার পক্ষে লড়ে ন্যায় বিচার পেয়েছি। কিন্তু দুই বছরেও আদালতের নির্দেশ মতো আমার টাকা ফেরত পাইনি।

তিনি বলেন- ইদানিং মুহিজুল নানাভাবে বিষয়টি মিটমাট করার জন্য চাপ দিচ্ছে। ফলে তিনি জানমালের ক্ষতির আশংকা করছেন।

Share





Related News

Comments are Closed