Main Menu

পর্দা নামলো তৃতীয় সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের

সিকৃবি সংবাদদাতা: সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী তৃতীয় সিলেট চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নেমেছে আজ শুক্রবার (২৬ এপ্রিল)। স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহ দেয়ার লক্ষ্যে গত দুই বছর যাবত এ উৎসব আয়োজিত হয়ে আসছে।

উৎসবে প্রথম দুই দিন চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও কর্মশালা এবং তৃতীয় দিন সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। শেষে আরও একদিন বাড়িয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবস্থলে পুরষ্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (বাংলাদেশি) বিভাগে পুরষ্কার জিতেছে ফারহা জাবিন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ড্রিড’, সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র (আন্তর্জাতিক) বিভাগে পুরষ্কার জিতেছে ভারতীয় নির্মাতা শ্রীরাম এসজি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘খিলুয়ানা’। শ্রীরাম এসজি একই সাথে সেরা স্ক্রিপ্ট রাইটারের পুরষ্কার পেয়েছেন খিলুয়ানা চলচ্চিত্রের জন্য।

এছাড়া সেরা প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের পুরষ্কার জিতেছে ভারতীয় নির্মাতা বিজয় চৌধুরী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ক্ষত’। শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে সেরা হয়েছে ফয়সাল আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘নীল’। ‘ইতিবৃত্ত কিংবা বাস্তবতার পুনরারম্ভ’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা চিত্রগ্রাহকের পুরষ্কার জিতেছেন সুমন সরকার। ‘কথক মায়া’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা সম্পাদকের পুরষ্কার জিতেছেন দেবাশীষ দাস। শুভ্রা গোস্বামী পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ভালবাসা’য় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরষ্কার জিতেছেন মৌসুমী হামিদ এবং শরত পারাইল পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ফিলিংস’ এ অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ট অভিনেতার পুরষ্কার জিতেছেন চন্দন সিং রাজপুত।

বিজয়ী ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নাজিম উদ্দিন আহমেদ, চলচ্চিত্র সংসদের উপদেষ্টা শহীদুল্লাহ কায়সার, সরকার মো. ইব্রাহিম খলিল ও তৌফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘সিলেট চলচ্চিত্র উৎসব স্বাধীন ধারার তরুণ নির্মাতাদের জন্য একটা নতুন দুয়ার খুলেছে। এই উৎসব ইতিমধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আগামীতে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের স্বীকৃতি দিতে এই উৎসব ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও রাজধানীর বাইরে এমন আন্তর্জাতিক উৎসব চলচ্চিত্রের দর্শকশ্রেণি তৈরি করতে পারবে।

সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হয়।

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী চত্বরে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহমেদ। উৎসবের উদ্বোধনের পর বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘চলচ্চিত্রে গল্প বলা’ নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আশরাফ শিশির, অর্ণব মিদ্যা, স্বরুপ আনন্দ ও সাংবাদিক সন্দ্বীপ রায় চৌধুরী। বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় অর্ণব মিদ্যা পরিচালিত ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘অন্দরকাহিনি’।

বিকেলে বেশ দর্শক সমাগম ঘটে উৎসবে। আগত দর্শকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, সিলেটে এমন চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনের ফলে আমরা ভাল চলচ্চিত্রগুলো দেখতে পাচ্ছি।

আয়োজক সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী চলে। এবার একই সঙ্গে দু’টি ভেন্যুতে (বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ও কৃষি অনুষদের ৩য় তলায় কনফারেন্স রুম) চলে প্রদর্শনী। এছাড়া শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের আয়োজনে উৎসব প্রাঙ্গণে শিশুদের জন্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বায়োস্কোপ ৩’ অনুষ্ঠিত হয়। অনেক অভিভাবক আলোকচিত্র দেখাতে তাদের শিশুদের নিয়ে এসেছিলেন।

উল্লেখ্য, এবারের আসরে বিশ্বের ১১১টি দেশ থেকে স্বল্প ও পূর্ণদৈর্ঘ্য ৩০৩৬টি চলচ্চিত্র জমা পড়ে । এর মধ্যে থেকে বাছাইকৃত ৯৬টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও ৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য মিলিয়ে মোট ১০০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্র নির্মাতা আশরাফ শিশির, অভিনেতা মনোজ কুমার, নির্মাতা মুক্তাদির ইবনে সালাম ও ভারতীয় চলচ্চিত্র সমালোচক সিদ্ধার্থ মাইতি। উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল বিপনীবিতান মাহা।

Share





Related News

Comments are Closed