কোটি টাকা নিয়ে মেঘনা লাইফ কর্মকর্তা লাপাত্তা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মেঘনা লাইফ ইনস্যুরেন্সের সিলেট জোনাল অফিস ইনচার্জ এইচ এম শাহীন গ্রাহকদের প্রায় এক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে তার কোন খোঁজ পাচ্ছেন না সাধারণ গ্রাহকরা। এমনকি তার পরিবার এবং অফিসের কর্মকর্তাদের কাছেও তার কোন সন্ধান নেই। শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরত চেয়ে সোমবার (১৫ এপ্রিল) ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা নগরীর বন্দর বাজারে করিম উল্লাহ মার্কেটের ৬ষ্ট তলায় মেঘনা লাইফের সিলেট বিভাগীয় এবং জোনাল কার্যালয়ে জড়ো হন। এসময় তাদের তোপের মুখে পড়েন সিলেট সফরে আসা প্রতিষ্ঠানটির ডিএমডি (ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর) রকিবুল হাসান সুমন।
এইচ এম শাহীন প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১২ বছর ধরে কাজ করে আসছেন। যে কারণে সাধারণ গ্রাহকের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত একজন হয়ে উঠেন। আর তাদের বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়েই তিনি হাতিয়ে নেন প্রায় কোটি টাকা। গ্রাহকরা মাসে মাসে প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিলেও তিনি তাদের নানাভাবে কথা বলে পিআর (রশিদ) না দিয়েই টাকা নিজের কাছে রেখে দিতেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় অফিসের গাড়ী ও চাবি হস্তান্তর করে লাপাত্তা হয়ে যান।
ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা জানান, ২০১৮ সালের শেষের দিকে তিনি প্রায় চারশতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা জমা নিলেও তাদের কোন জমা রশিদ দেননি। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেন। দীর্ঘদিনের লেনদেনের সম্পর্কের প্রেক্ষিতে তারা তাকে বিশ্বাস করে টাকা দিয়ে দেন। টাকা জমা দেয়ার বেশ কয়েকদিন পরও জমা রশীদ কিংবা প্রাপ্ত টাকা না দেয়ায় তারা কোম্পানীর দ্বারস্থ হন। তখন শাহীন পালিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পারেন। এজন্য তারা আজ প্রতিষ্ঠানের ডিএমডির সাথে কথা বলতে এসেছেন।
এ ব্যাপারে মেঘনা লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানীর সিলেট অফিসের কর্মকর্তা নিবাস রঞ্জন চয়ন বলেন- ‘গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এইচ এম শাহীনের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তার লাপাত্তা হওয়ার পর থেকেই এখন পর্যন্ত ২৮৬ জন গ্রাহক অফিসে এসে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা তার সাথে যোগাযোগ করা অনেক চেষ্টা করেও তাকে পাইনি। তাই আমরা কোম্পানীর প্রধান কার্যালয়ে বিষয়টি অবগত করি। এর প্রেক্ষিতে কোম্পানির ডিএমডি (উন্নয়ন) রকিবুল হাসান সুমন সিলেটে এসেছেন। তিনি গ্রাহকদের সাথে কথা বলছেন।’
প্রতিষ্ঠানের ডিএমডি (উন্নয়ন) রকিবুল হাসান সুমন বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলছি। যাদের প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার কাগজপত্রাদি কিংবা কোন প্রমাণ রয়েছে তারা রশিদ দেখাতে পারলে নীতিমালা অনুসারে কোম্পানী এর দায়ভার নেবে অন্যথায় আমাদের কিছু করার নেই।’ তিনি পলাতক শাহীনের কাছে কেউ টাকা পেলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শও দেন।
Related News
দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশRead More
দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশRead More



Comments are Closed