Main Menu

শিক্ষক সাইফুর হত্যায় ২ জনের স্বীকারোক্তি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের মদন মোহন কলেজের শিক্ষক সাইফুর রহমান হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছে গ্রেফতার দুই আসামি।

সোমবার দুপুরে সিলেট মেট্টোপলিটন তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের সামনে তারা এ স্বীকারোক্তি দেয়।

আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতকের আলমপুর গ্রামের মোজাম্মিল হোসেন ও নগরীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনীম।

মোজাম্মিলের (২৪) গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলায়। সে সিলেটের এমসি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। আর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনিম রুপা (২০) একই কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী। তারা দু’জনেই এমসি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সদস্য। অন্যদিকে নিহত সাইফুর এমসি কলেজ রোভার স্কাউট গ্রুপের সাবেক সিনিয়র রোভার মেট ছিলেন।

পুলিশ জানায়, নগরীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের বাসায় লজিং শিক্ষক হিসেবে থাকতেন সিলেট মদন মোহন কলেজের প্রভাষক মো. সাইফুর রহমান (২৯)। শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনীম রুপা (২০) কে পড়াতেন তিনি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে গত শনিবার রাতে সাইফুর রহমানকে নিয়ে নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার হোটেল মেহেরপুরে ওঠেন নিশাত তাসনীম রুপা।

হোটেলে ওঠার পর রাতেই সাইফুরকে বিষ ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন রুপা। এরপর গলায় রশি পেচিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

মৃত্যু নিশ্চিতের পর রুপা হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষে (রিসিপশন) এসে জানান, তাঁর স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, হাসপাতালে নিতে হবে। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক রুপার প্রেমিক মোজাম্মিল হোসেন একটি অটোরিকশা নিয়ে হোটেলের সামনে আসেন। পরে ওই অটোরিকশায় করে রুপা, মোজাম্মিল এবং চালক মিলে সাইফুরের লাশ দক্ষিণ সুরমায় সড়কের পাশে ফেলে আসেন।

সোমবার সিলেট মহানগর ৩য় আদালতের হাকিম সাইফুর রহমানের আদালতে এমনটি জবানবন্দি দেন নগরীর শাহপরান এলাকার খিদিরপুর গ্রামের শফিকুর রহমানের মেয়ে নিশাত তাসনীম রুপা (২০)। একই আদালতে রুপার কথিত প্রেমিক ছাতক উপজেলার আলমপুর গ্রামের মোজাম্মিল হোসেনও (২৪) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে রুপা দাবি করেন, তাঁর মতের বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সাইফুর। বিভিন্ন সময়ে শারীরিক সম্পর্কের সময় ধারনকৃত ভিডিও, স্থিরচিত্র ও মিথ্যে কাবিননামার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে দেন সাইফুর। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের সাইফুর হুমকী প্রদান করতেন বলে দাবি করেন রুপা। এতেই প্রতিশোধ পরায়ণ তিনি সাইফুরকে হত্যা করেন বলে আদালতকে জানান।

রুপা আদালতকে বলেন, শনিবার রাত ৮টার দিকে তিনি সাইফুরের সাথে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা করেন এবং তাকে বিশ ও ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত সেমাই খেতে দেন। সেমাই খাওয়ার পর সাইফুর রহমানকে নিয়ে রুপা হোটেল মেহেরপুরের ২০৬ নং কক্ষে উঠেন। কক্ষে উঠার কিছুক্ষণ পর সাইফুর কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়লে নিশাত তাসনিম রুপা তাহার সাথে থাকা রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।

১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ভারাপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল।

রোববার সকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকার সড়কের পাশ থেকে নগরীর মদন মোহন কলেজের প্রভাষক সাইফুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর টিলাগড় থেকে মোজাম্মিল হোসেন (২৪) এবং নিজ বাড়ি থেকে নিশাত তাসনীম রুপা (২০) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার সকালে নিহতের মা রনিফা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে দক্ষিণ সুরমা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনকে দুপুরে আদালতে হাজির করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

দু’জনের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাসায় লজিং থেকে রুপাকে পড়াতেন সাইফুর। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি মোজাম্মিলের সাথে প্রেমে জড়ান রুপা। এতে বাঁধা দেন সাইফুর। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে মোজাম্মিল ও রুপা পরিকল্পনা করে সাইফুরকে হত্যা করেন।

সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা বলেন, সাইফুরের লাশ উদ্ধারের পরই তদন্তে নামে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাইফুর রহমানের প্রাক্তন প্রেমিকা ও তার প্রেমিককে আটক করা হয়। এতে প্রেম সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে আসে। তাদের আদালতে হাজির করলে এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, মদন মোহন কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের খন্ডকালীন শিক্ষক সাইফুর রহমান গোয়াইনঘাট উপজেলার ফলতইল গ্রামের মো. ইউসুব আলীর ছেলে। গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে মেস থেকে বের হন সাইফুর রহমান। রাতে তিনি আর বাসায় ফিরেননি। রবিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার তেলিরাই এলাকায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয় লোকজন।

Share





Related News

Comments are Closed