Main Menu

ক্ষতিপূরণের ৫০ লাখ টাকা পাচ্ছেন রাসেল

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : রাজধানীতে গ্রিন লাইন বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা দিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

রোববার (৩১ মার্চ) হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের করা আবেদন আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে গ্রিন লাইনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার ও মো. ওজিউল্লাহ। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড খবির উদ্দিন ভূঁইয়া।

এর আগে গত ১২ মার্চ বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রুলের শুনানি নিয়ে ওই ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেন। এ জন্য দুই সপ্তাহ সময়ও বেঁধে দেন আদালত। একই সঙ্গে রাসেলের চিকিৎসা-সংক্রান্ত যাবতীয় খরচ বহন এবং তার কৃত্রিম পা লাগানোর ব্যবস্থা করতেও গ্রীন লাইনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর পরবর্তী শুনানির জন্য ৩১ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেন।

তবে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত চেয়ে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। আবেদনটি ১৪ মার্চ চেম্বার বিচারপতির আদালতে ওঠে। সেদিন চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের করা আবেদনটি ৩১ মার্চ (আজ) আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় আজ আপিল বিভাগে আবেদনটির ওপর শুনানি হয়।

এর ফলে পা হারানো রাসেল সরকারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে ওই পরিবহন কর্তৃপক্ষকে।

৩১ মার্চ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। তাদের আপিলটি খারিজ হয়ে যাওয়ায় ক্ষতিপূরণের ওই অর্থ পাচ্ছেন রাসেল সরকার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রীন লাইন পরিবহনের বাস চালক প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন। এতে রাসেলের দেহ থেকে বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পা হারানো রাসেলের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম, গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা। ওই দুর্ঘটনার পর সংরক্ষিত আসনের এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে ক্ষতিপূরণ চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন। রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণের আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, রাসেল একটি প্রতিষ্ঠানের ভাড়া গাড়ি চালাতেন। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ীর হানিফ উড়ালসড়কে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারান তিনি।

ঘটনার পর রাসেল বলেছিলেন, ফেরার সময় যাত্রাবাড়ীতে গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাস তার গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়ি থামিয়ে বাসের সামনে গিয়ে বাসচালককে নামতে বলেন তিনি। তখন তার সঙ্গে বাসচালকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাসচালক গাড়ি চালাতে শুরু করেন। রাসেল সরতে গেলে উড়ালসড়কের রেলিংয়ে আটকে যান। এ সময় রাসেলের পায়ের ওপর দিয়ে বাস চলে যায়। এরপর অস্ত্রোপচার করে তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়।

এ ঘটনায় রাসেলের বড় ভাই আরিফ সরকার বাসচালক কবির মিয়ার বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল মামলা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed