Main Menu

ময়নাতদন্ত ছাড়াই ওয়াসিমের লাশ হস্তান্তর

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মৌলভীবাজারের শেরপুরে বাসচাপায় নিহত সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি)-এর শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শনিবার রাতে ওয়াসিম আফনানের লাশ হস্তান্তর করা হয় বলে জানান কতোয়ালি থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সেলিম মিয়া।

শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুরে বাসা চাপায় নিহত হন সিকৃবি শিক্ষার্থী ওয়াসিম আফনান। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চাপা দিয়ে ওয়াসিমকে হত্যা করা হয়।

এ অভিযোগে শনিবার রাতে ওসমানী হাসপাতাল ও বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। অভিযুক্ত বাস ও চালককে আটক করে পুলিশ।

শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের মধ্যেই ময়নাতদন্ত ছাড়া ছেলের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন ওয়াসিমের বাবা মো. আবু জাহেদ মাহবুব।

ওসি সেলিম মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছেলের লাশ নিয়ে যেতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর আবেদন করেন ওয়াসিমের বাবা। ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে রাতেই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তারা লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হবে না বলেও নিহতের বাবার বরাত দিয়ে জানান ওসি সেলিম।

এ ব্যাপারে ওসমানী হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা না বলে সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

সেসময় হাসপাতালে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা ময়নাতদন্ত ও মামলা করার ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করলেও পরিবার তাতে রাজী হয়নি। এসময় সিকৃবি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ওয়াসিমের জানাযা পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে তাতেও রাজী হননি নিহতের বাবা।

নিহত ওয়াসিম আফনান হবিগঞ্জে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্র গ্রামের মো. আবু জাহেদ মাহবুব ও ডা. মীনা পারভিন দম্পত্তির একমাত্র ছেলে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র ছিল সে।

জানা যায়, শনিবার বিকেলে ওয়াসিম হবিগঞ্জের আউশকান্দি থেকে সিলেটে আসার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ রুটের উদার পরিবহন নামের একটি বাসে উঠেন। গা্ড়িটি শেরপুর এলাকায় আসার পর বাসের হেল্পার ও চালকের সাথে তার বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সেই বাসের হেল্পার তাকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এসময় বাসটি তার উপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাতে ওয়াসিমের মরদেহ ওসমানী হাসপাতালে আনা হলে সেখানে জড়ো হয়ে সিকৃবি শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। পরে কদমতলী বাস টার্মিনাল ও হুমায়ুন রশীদ চত্বর এলাকায়ও বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, রাত ৮টার দিকে ওসমানী নগরের উনিশ মাইল এলাকায় উদার পরিবহনের ওই বাসটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে ওই বাসের চালক জুয়েল আহমদ (২৬) কে আটক করে কতোয়ালি থানা পুলিশ। জুয়েল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পুরানবাজার এলাকার বাড়াউরা গ্রামের মৃত অজিদ মিয়ার ছেলে।

Share





Related News

Comments are Closed