Main Menu

সুনামগঞ্জে আ’লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃক্তরা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ধলাইপাড় এলাকা থেকে জয়নাল আবেদীনের (৫০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

জয়নাল ওই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মুসলেম উদ্দিনের ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এ ঘটনায় নিহতের দোকান কর্মচারীসহ সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের ধলাইপাড় গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে মোঃ সেলিম মিয়া (২৬), মোঃ ফেরদৌস মিয়ার ছেলে মোঃ সাগর মিয়া (১৭), ডাঃ মোতালিব এর ছেলে শাহিন শাহ (৪০) ও নিহতের দোকান কর্মচারী জগন্নাথপুর উপজেলার মোঃ রবি মিয়া (২৫)।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় নিহত জয়নাল আবেদীন তার গ্রামের পাশে নিজ দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় পন্য নিতে আসলেও রাতে তিনি আর বাড়ি ফিরে যাননি। দুবৃর্ত্তরা রাতে মাদক সেবন করে তাকে নিজ দোকানের সামনে থেকে তুলে নিয়ে একই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ধলাইপাড় ত্রিমুখী রাস্তার পাশে নিয়ে দাড়াঁলো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে যায়।

মঙ্গলবার সকালে ধলাইপাড় ত্রিমুখী রাস্তার পাশে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হায়াতুনবী ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করেন এবং স্বজনসহ স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী আটককৃতদের সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে তাদের ধারনা। তারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।

জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুকসেদ আলী বলেন, গ্রামের একটি স্কুলের পাশে জয়নালের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তাকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

সদর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহ জানান, জয়নাল মিয়ার শরীরের ৩ স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারীরা মদ্যপ অবস্থায় ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

জেলা পুলিশ সুপার মোঃ বরকতুল্লাহ খান হত্যাকান্ডের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের গলায় ও পেটে ছুরির আঘাত রয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় আটক চারজনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed