Main Menu

নিউজিল্যান্ডে গুলিতে ৩ বাংলাদেশি নিহত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুই মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় নিহতদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভুইয়া।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে দুজন হলেন- স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ও তার স্ত্রী। নিহত ড. সামাদ বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। নিহত আরেকজন হলেন- গৃহবধূ হোসনে আরা পারভিন।

শফিকুর রহমান ভুইয়া আরো জানান, মসজিদে হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া গোলাগুলির ঘটনার পর থেকে তিন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছেন।

ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে চালানো হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন ৪৮ জন।

দেশটির পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, আল নুর মসজিদেই নিহত হয়েছেন ৪১ জন। আর বাকিরা লিনউডের আরেকটি মসজিদে নিহত হয়েছেন। এর আগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছিলেন, শুক্রবার চালানো এই হামলায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত এক নারী ও তিন পুরুষসহ চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ।

ভয়াবহ হামলার ঘটনা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান নিউজিল্যান্ডে সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা। এই হামলার পর নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যেকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জানান, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব খেলোয়াড়দের দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছি।’ জানা গেছে, আগামীকাল শনিবার দেশে ফিরে আসবেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

শুক্রবার দুপুরে সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের কোনো মিশন নেই। অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশি দূতাবাসের হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’

নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও বর্তমানে হামলাস্থল ক্রাইস্টচার্চ শহরে রয়েছে। দুপুরে হ্যাগলি ওভাল মাঠে অনুশীলন শেষে তাদের আল নুর মসজিদেই নামাজ আদায় করতে যাওয়ার কথা ছিল।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলের খুব কাছেই ছিলেন। তবে তারা সবাই নিরাপদে রয়েছেন।

বাংলাদেশ দলের ব্যবস্থাপক খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেটারদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দলের সদস্যদের সবাই হোটেলে ফিরে এসেছেন। তাঁদের হোটেল থেকে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের শহরতলি লিনউডের মসজিদেও সশস্ত্র পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। হ্যাগলি পার্ক এলাকা ও আশপাশের লোকজনকে বাড়ি থেকে বের হতে মানা করা হয়েছে। এই পার্কের সামনের ডিয়েন এভিনিউয়ে আল নুর মসজিদটি অবস্থিত।

পুলিশ কমিশনার মাইক বুশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সেখানকার স্কুল ও চার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আকাশে হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, তারা সেখানে কয়েকটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিছু লোকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের বিষয়টি এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে পুলিশ বা শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বন্দুকধারীকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন তারা।

Share





Related News

Comments are Closed