বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেপ্তার শুরু হয়েছে: মুক্তাদির
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট-১ আসনে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার ততই বুঝতে পারছে, তাদের পায়ের নীচে মাটি নেই। তারা বুঝতে পেরেছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর এই সরকারের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার প্রত্যাশায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে জনতার ঢল নামবে।
এসমসয় তিনি বলেন- আওয়ামী লীগ সরকার ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট ডাকাতির প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে সিলেটে গণগ্রেপ্তার শুরু করেছে ক্ষমতাসীন সরকার। শুধু গ্রেপ্তার নয়, ধানের শীষের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।
সোমবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর আম্বরখানান্থ তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব অভিযোগ করেন।
মুক্তাদির বলেন, ‘রোববার রাতে ৩ দফায় তিনটি সভাস্থল থেকে আমাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে সাদা পোষাকের পুলিশ। কৌশলে আমি গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হয়েছি। তবে গত দু’দিনে বিএনপি ও ২৩ দলের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি মুফতি বদরুন নুর সায়েক, হাটখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি নেতা আজির উদ্দিন, মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, জেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ওলিউর রহমান ডেনি, মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, ১৬ নম্বর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি বেলাল আহমদ, যুবদল নেতা গাজী লিটন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মীর্জা জাহেদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষ্ণঘোষ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহজাহান আহমদ, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চমক আলীর পুত্র সোহেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জাহেদ আহমদ, সোহেব খান, তানজিল আহমদ, ১৬ নং ওয়ার্ড জাসাসের সাধারণ সম্পাদক রুমান খান, বিএনপি কর্মী হাবিবুর রহমান ডালিম, খোরশেদ আলম প্রমুখ।
তিনি আরো জানান, এদেরকে গ্রেপ্তার করা ছাড়াও প্রতিটি সেন্টার কমিটির সভার পরপরই পুলিশ ঐ এলাকায় হানা দিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাদেরকে না পেয়ে ৩০ তারিখে এলাকায় না থাকার জন্য পরিবারকে হুমকী দিয়ে আসছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন- ইতোমধ্যে জেলা বিএনপির সহ সভাপতি একেএম তারেক কালাম, খাদিমনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন, টুকেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ আহমদের বাড়িতে গিয়ে তল্লাশীর নামে ভাংচুর চালিয়েছে পুলিশ। গত দু’দিনে শাহপরাণ, জালালাবাদ, এয়ারপোর্ট ও দক্ষিণ সুরমা থানায় আরো ৪টি গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট থানায় বিএনপির ৫৭ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। শাহপরাণ থানার গায়েবী মামলায় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাজাহারুল ইসলাম ডালিমসহ শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ সাদা পোষাকে সোমবার দুপুরে সদর থানা বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে জনতার প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
আইনশৃংখলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের মানুষের সেবক। জনগণের সেবার সুযোগ সবাই পায়না- আল্লাহ আপনাদের সেই সুযোগ দিয়েছেন। নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে পরকালের কথা চিন্তা করে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে সৎভাবে দায়িত্ব পালন করুন। আপনারা জনগণের সাথে থাকুন। অন্যথায় জনগণের কাছে আপনার চিরনিন্দিত হয়ে থাকবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল বক্ত সাদেক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুদ্দোজা বদর, মহানগর বিএনপি নেতা ডা. আশরাফ আলী, মাজহারুল ইসলাম ডালিম, এডভোকেট সাঈদ আহমদ, আফম কামাল, এডভোকেট আব্দুল মালেক প্রমুখ।
Related News
গণতন্ত্র পেয়েছি, রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশেRead More
সিলেটে রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করল মহানগর বিএনপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সম্মানে আয়োজিত নাগরিকRead More



Comments are Closed