Main Menu

১৪ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হলে ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে উঠে এসেছে এসব প্রতিশ্রুতি।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনালে সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিশ্রুতিসহ ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার ঘোষণা করেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি বিষয়ে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়, নির্বাচনে জিতলে সব নাগরিকের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পরিবর্তন আনা হবে। পরিবর্তন আসবে বিদুৎ ও জ্বালানি, প্রবাসীকল্যাণ, নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন, প্রতিরক্ষা ও পুলিশ, পররাষ্ট্রনীতি ও জলবায়ু মোকাবেলা নীতিতেও।

এছাড়া, পরপর দুই মেয়াদের বেশি একজন প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এবং পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা থাকবে না বলেও উল্লেখ করা হয় ঐক্যফ্যন্টের ইশতেহারে।

বিএনপি-গণফোরাম-জেএসডি-নাগরিক ঐক্য-কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সমন্বয়ে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তারা ক্ষমতায় এলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখবে।

রাষ্ট্র ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে ঐক্যফ্রন্ট শ্রতিশ্রতি দিয়েছেন-

নির্বাচনকালীন সরকাররে বিধান তৈরি করা, নির্বাচন কমিশনকে পুর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা দেয়া সহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে মুক্তভাবে মানুষের ভোটাদিকার প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

সংসদে একটি উচ্চকক্ষ সৃষ্টি করা হবে।

সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে। একটানা পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না।

সংসদে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দলীয় সংসদ্যদের মধ্যে থেকে নির্বাচিত হবে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক সভাপতির পদ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে।

আইন এবং রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন এবং পর্যালোচনাই হবে সংসদ সদস্যের মূল কাজ।

সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে সকাল জাতীয় কমিশন গঠনে এবং ন্যায়পাল বিয়োগে বিরোধী দলের মতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হবে।

সকল সাংবিধানিক পদে নিয়োগের জন্য সুস্পষ্ট আইন তৈরি করা হবে। ন্যায়পাল ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিসহ সব নিয়োগের জন্য বিরোধী দলীয় সাংসদ ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে।

সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসন ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে। তবে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যূনতম ২০ শতাংশ নারীদের মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যবাদকতা থাকবে।

বাংলাদেশে প্রাদেশিক সরকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা পরীক্ষার জন্য একটি সর্বদলীয় জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি অাসম অাব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজা কিবরিয়া প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed