Main Menu

বালাগঞ্জে মাদরাসা ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক ২

ওসমানীনগর প্রতিনিধি : সিলেটের বালাগঞ্জে এক মাদরাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। নিজ বাড়িতে তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ছাত্রীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার দেওয়ান বাজার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের শিওরখাল গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে বলে জানা গেছে।

বালাগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ওই কিশোরী প্রয়োজনীয় কাজে বসত ঘরের বাইরে বের হয়। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশি কয়েকজন বখাটে তাকে জোর করে ধরে বাড়ির পরিত্যক্ত একটি গোয়াল ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। বাড়ির লোকজন মেয়েটিকে খোঁজাখুঁজি করে একপর্যায়ে বাড়ির গোয়াল ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। এসময় বাড়ির লোকজনের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী আতউর রহমান ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

গণধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর বাবা বলেন, ‘প্রতিবেশী আব্দুল করিমের পুত্র আহাদ আলী ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলীর পুত্র আজর আলীসহ তাদের সহযোগী ৫-৬ বখাটে আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি, আমি ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।’

স্থানীয়রা এই এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। অভিযুক্তরা দ্রুত গ্রেফতার না হলে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য লোকন আহমদ জানান, এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাত আটটার দিকে স্থানীয়দের উদ্যোগে স্থানীয় মাদরাসা বাজারে প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে।

বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্য গাজী আতাউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মেয়েটির পরিবার ও প্রতিবেশীর বক্তব্য গ্রহণ করেছি। মেয়েটির পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন ঘটনার সাথে ৫-৬ জন জড়িত ছিল। প্রাথমিক অবস্থায় দুই জনের নাম জানা গেছে, তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

পুলিশের হাতে গ্রেফতার দুই ধর্ষক আব্দুল আহাদ (২৫) ও আযই (৩২)।

এ ঘটনায় নির্যাতিতার পিতা আতিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জনকে আসামী করে শুক্রবার রাতে বালাগঞ্জ থানায় একটি (মামলা নং-০৮) মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামীরা হচ্ছে, উপজেলার শিওরখান গ্রামের আব্দুল করিমের পুত্র আব্দুল আহাদ (২৫) ও একই গ্রামের আইয়ুব উল্লাহর পুত্র আজই (৩২)। শনিবার এলাকাবাসীকে শান্তনা ও প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিকেলে দুজনকে আটক করা হয়।

এদিকে, মাদরাসা ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। মানবাধিকার-সহ বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন নেতৃবন্দ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণধর্ষক নরপশুদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
ভিকটিমকে দেখতে ও ঘটনার সরেজমিন পরিদর্শনে শনিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ আহমদ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ সাইদুল ইসলাম দুলাল, মহিলা সম্পাদিকা লাবণী পাল তুলি, সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান সহ অন্য সদস্যবৃন্দ ধর্ষিতার বাড়িতে যান। মানবাধিকার নেতারা ঘটনাস্থল মাদ্রাছাত্রীর বাড়িতে যান এবং তাদের আইনী ও সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দেন। এসময় মানবাধিকার নেতা ও কর্মীরা এলাকার ক্ষুব্দ জনতাকে শান্তনা দেন এবং অবিলম্বে ধর্ষকদের গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
একই সময়ে সিলেটে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজিদ আহমদ একদল পুলিশ নিয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নির্যাতিত মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবারের সাথে আলাপ করেন। অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সাজিদ আহমদ ছাত্রীর পরিবার ও এলাকার প্রতিবাদী জনতাকে শান্ত থাকার আহবান জানান এবং দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

Share





Related News

Comments are Closed