Main Menu

বাসিয়া সেতুতে এক ভিক্ষুকের আকুতি

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : ও গেঞ্জি আলা ভাই, ও লাল শার্ট আলা ভাই, ও বোরকা পড়া আপা, ও টাস মোবাইল আলা ভাই, ‘মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে’। এভাবে প্রতিদিন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের বাসিয়া সেতুর ওপর চলাচল করলে হুইল চেয়ার বসা প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক যুবকের আকুতি শোনা যায়। তার নাম জাহাঙ্গীর আলম (২৩)। সে সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানার শহরতলি গ্রামের মৃত ফেরদৌস মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে তার মায়ের সঙ্গে বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের টিএন্ডটি রোডের একটি কলোনীতে বসবাস করে আসছে।

বিশ্বনাথ উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র বাসিয়া সেতুর ওপর প্রতিদিন শতশত গাড়ি ও হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। সেতুর একপাশে উপজেলা সদরের পুরান বাজার ও ওপর পাশে নতুন বাজার। ফলে প্রতিদিনই এ সেতুর ওপর দিয়ে পথচারী-স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীরা চলাচলে করেন। সেতুর মধ্যখানে হুইল চেয়ারে বসা প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক জাহাঙ্গীর আলম। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের দেখা মাত্রই শুরু হয় তার ভিক্ষার আকুতি। এতে কেউ টাকা দিলে তার জন্য দোয়া করে এবং টাকা না দিলে বলে ‘মানুষের দয়া নাই রে, মায়া নাই রে’। তবে পথচারী নারী-পুরুষ-প্রবাসী অনেকেই তাকে নিজ সাধ্যমতে টাকা দিতে দেখা যায়।

সোমবার বিকেলে বাসিয়া সেতুর ওপর প্রতিবন্ধি ভিক্ষুক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে আলাপকালে সে জানায়, জন্মের পর থেকে সে প্রতিবন্ধি হিসেবে বড় হয়েছে। ছয় বছর বয়স থেকে সে ভিক্ষা করে আসছে। ২০১৭ সালে তার বাবা মারা যান। উপজেলা সদরের একটি কলোনীতে এক হাজার টাকা ভাড়া বাসায় তার মা-ছোট বোন নিয়ে বসবাস করে। প্রতিদিন প্রায় ৩-৪শ টাকা ভিক্ষা করে পায় সে। ওই ভিক্ষার টাকা দিয়েই চলে তার তিন সদস্যের পরিবার। তার পা দুটি ব্যঙ্গ হওয়ায় প্রতিদিন সকাল ৯টায় তার মা হুইল চেয়ারে করে বাসিয়া সেতুর ওপর তাকে রেখে যান এবং বিকেলে এসে নিয়ে যান। ভিক্ষা করে সে সংসার চালায়। সরকারের কাছ থেকে সে বড় ধরণের আর্থিক সহযোগিতা পেলে ভিক্ষা ছেড়ে দিবে বলে জানায়।

জানা গেছে, প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচত সিলেটের বিশ্বনাথ। এ উপজেলায় ভিক্ষুকের সংখ্যা অন্য এলাকার চেয়ে বেশি। সিলেট বিভাগ তথা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শীত মৌসুম কিংবা রমজান মাসের শুরু, বছরের দুটি ঈদে ভিক্ষুদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। তারা বিভিন্ন মার্কেটের সামনে কিংবা রাস্তার পাশে বসে থাকে। প্রবাসী কাউকে দেখা মাত্রই দৌড়ে ছুটে যায় ভিক্ষুকরা। এতে অনেকেই বিরক্ত হলেও অনেকেই তাদের টাকা দিয়ে সাহায্য করেন। তবে স্থানীয় ভিক্ষুকদের চেয়ে অন্য থানার ভিক্ষুকরা বেশি। উপজেলা সদরে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ভিক্ষুকদের আনাগোনা দেখা যায়। এতে মহিলা ভিক্ষুকের সংখ্যা বেশি।

এলাকাবাসী জানান, শীত মৌসুমে এলাকার প্রচুর প্রবাসী দেশে আসেন। ঈদ কিংবা রমজান মাস আসলেই ভিক্ষুকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখা যায় ভিক্ষুরা দরজার সামনে। এসময় তারা তাদের (ভিক্ষুকরা) বিভিন্ন সমস্যার কথা বলতে থাকে। প্রতিদিন কয়েক শত ভিক্ষুক এলাকায় চষে বেড়ায়। বাসা-বাড়ি ছাড়াও তারা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ঘুরে বেড়ায়। তবে নিজ নিজ সাধ্য মতে এলাকার মানুষ তাদের টাকা দিয়ে আসছেন। তবে খুব কম ভিক্ষুক খালি হাতে ফিরতে হয়।

এব্যাপারে পথচারী কামাল আহমদ বলেন, প্রতিদিন বাসিয়া সেতুর ওপর হুইল চেয়ারে বসে ওই যুবক ভিক্ষা করতে দেখা যায়। সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের উদ্দেশ্যে তার ভিক্ষা চাওয়ার আকুতি শোনা যায়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত উপজেলা ঘোষনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে বেশ কয়েকজন ভিক্ষুককে পুর্নবাসন করা হয়েছে। তবে বিশ্বনাথের স্থানীয় ভিক্ষুকদের পুর্নবাসন করা হবে বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed