লাওসকে ১-০ গোলে হারালো বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক: বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে ১-০ গোলে লাওসকে হারিয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার পথে এক পা এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সিলেটের ছেলে বিপলু আহমদ করেছেন ম্যাচের একমাত্র গোলটি।
সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্টিত ম্যাচের প্রথমার্ধে একের পর এক আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে গোলের দেখা পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডদেরও দায় ছিল। তারা সহজ সুযোগ মিস না করলে এ অর্ধেই এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। লাওসও কয়েকবার আক্রমণে ওঠেছিল। কিন্তু দুর্বল শট আর বাংলাদেশ ডিফেন্সের দৃঢ়তায় গোলপোস্টের জাল খুঁজে পায়নি তারাও।
দ্বিতীয়ার্ধেও চিত্রটার বদল হয়নি খুব একটা। প্রথমার্ধের মতোই একের পর এক আক্রমণে ওঠেছে বাংলাদেশ। তবে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে গিয়ে সেই আক্রমণ খেই হারিয়েছে। লাওসও পারেনি বাংলাদেশ ডিফেন্সের খুব বেশি পরীক্ষা নিতে।
ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন পুরো ম্যাচে দারুণ খেলা নাবিব নেওয়াজ জীবন। সেই শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। ফিরতি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। জটলার মধ্যে বল পেয়ে আলতো ছোঁয়ায় গোল করেন বিপলু আহমদ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সহজ সুযোগ নষ্ট করেন সুফিল। প্রতিপক্ষের বক্সে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের বাইরে শট নেন তিনি। পাল্টা আক্রমণে ডান প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ডিফেন্সে ঢুকে পড়েন লাওসের সকচিন্ডা নাথফাসুক। তবে তার জোরালো পোস্টের ঠিক উপর দিয়ে বাইরে যায়। ম্যাচের ৫০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে বাড়ানো শটে লাওসের বক্সে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড নেন বদলি হিসেবে নামা রবিউল। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে আক্রমণে ওঠা লাওসের ফিটহ্যাককে ফাউল করেন বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডার। ফ্রি কিক কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় লাওস। পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ইব্রাহিম। তবে গোলরক্ষক এগিয়ে এসে আরেকটি গোল খাওয়া থেকে রক্ষা করেন লাওসকে।
এর আগে প্রথমার্ধের ৮ মিনিটে লাওসের ফরোয়ার্ড সকচিন্ডা নাটফাসুক বাংলাদেশের ডিফেন্সকে পরাস্ত করেছিলেন। তবে গোলরক্ষকের বাধা ডিঙাতে পারেননি। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকা বাংলাদেশ ১১ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল এগিয়ে যাওয়ার। মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বল ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ঢুকে পড়েছিলেন নাবিব নেওয়াজ জীবন। কিন্তু তার জোরালো শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়। দু’মিনিট পরে ডান প্রান্তে বল ধরে জীবনের দারুণ এক পাস কর্ণারের বিনিময়ে রক্ষা করে লাওস। প্রথমার্ধের ১৫ মিনিটে লাওসের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ছানথাফনে ওয়েনভংসথের বাড়ানো শটে বনথাভি সিপাসংয়ের হেড পোস্টের ঠিক উপর দিয়ে বাইরে যায়। ১৮ মিনিটে বিপলুর ব্যর্থতায় গোল পায়নি বাংলাদেশ। সিলেটের এই ছেলে প্রতিপক্ষের ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও শট নিতে ব্যর্থ হন। ২৫ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করেন সিলেটের আরেক ছেলে মাহবুবুর রহমান সুফিল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল বাড়িয়েছিলেন ওয়ালি ফয়সাল। বল ধরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও পোস্টের অনেক বাইরে মারেন সুফিল। এ অর্ধের ২৯ মিনিটে টুটুলের বাড়ানো পাস ধরে জীবনের শট সহজেই হাতের মুঠোয় পুরেন লাওসের গোলরক্ষক সায়মনলিন পাসেউথ। দুই মিনিট পর বাংলাদেশের ডিবক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও শট নিতে ইতস্তত করতে করতে সুযোগ হারান লাওসের ফিটহ্যাক। ৩৬ মিনিটে বনপাছান বনকং ডিবক্সের বাইরে বল ধরে বাংলাদেশ ডিবক্সে ঢুকে পড়েছিলেন। তবে তার দুর্বল শট ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি বাংলাদেশ গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানাকে। ৪০ মিনিটের মাথায় ফউথনে ইনালয়ের শট বাংলাদেশ পোস্টের উপর দিয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ।
বাংলাদেশ একাদশ : আশরাফুল ইসলাম রানা, ওয়ালি ফয়সাল, বিশ্বনাথ ঘোষ, তপু বর্মন, টুটুল হোসেন বাদশা, বিপলু আহমেদ (মামুনুল ইসলাম), জামাল ভূঁইয়া, মাসুক মিয়া জনি, রবিউল হাসান (জাফর ইকবাল), মাহবুবুর রহমান সুফিল (ইব্রাহিম) ও নাবীব নেওয়াজ জীবন।
এর আগে সোমবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
উদ্বোধনী ম্যাচে গ্যালারি ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ। টিকেটের জন্য লম্বা লাইন ছিলো দুপুর থেকেই। সিলেট নগরীর পাশাপাশি আশপাশের উপজেলা থেকেও ফুটবলপ্রেমীরা এসে ভিড় করেন স্টেডিয়ামের টিকেট কাউন্টারগুলোতে।
Related News
বিশ্বকাপের ভেন্যু দেখতে সিলেটে আইসিসির প্রতিনিধি দল
স্পোর্টস ডেস্ক: আসন্ন নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেRead More
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবলের আকাশে আবার রক্তিম সূর্যোদয়। আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপRead More



Comments are Closed