Main Menu

সিলেটে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জমকালো উদ্বোধন

স্পোর্টস ডেস্ক: জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিলেটে উদ্বোধন করা হলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আসরের। টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি, এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী শ্রী বীরেন শিকদার। এতে সভাপতিত্ব করেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন।
এদিকে দীর্ঘ দিন পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় হোম ভেন্যু খ্যাত সিলেটে জমকালো ফুটবল আসর বলে দর্শকদের মনে বাড়তি আগ্রহ রয়েছে। সিলেটে দ্বিতীয়বারের মত করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আসর হচ্ছে।তাই স্বাভাবিক ভাবে দর্শকদের মনে বাড়তি উন্মাদনা কাজ করছে।মাঠে বসে খেলা দেখতে পারবে তারা দেশি বিদেশী ফুটবলারদের পায়ের যাদু । বাংলাদেশের প্লেয়ারদেরকে অনুপ্রেরণা দিতে দর্শকেরা প্লে-কার্ড,ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এসেছেন।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপে লাওসের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সাফ ব্যর্থতার পর এই টুর্নামেন্ট দিয়ে বাংলাদেশ আবার ঘুড়ে দাড়াতে চায়।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে আগের চার আসরে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য একবার ফাইনাল খেলা। এবারের পঞ্চম আসরে অবশ্য এত বড় উচ্চাকাংক্ষা নেই। কারণ বাস্তবতা হচ্ছে অংশ নেয়া দলগুলোর সবগুলোই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে লাল-সবুজের দেশের চেয়ে এগিয়ে। তবে এবার তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়ায় নকআউট পর্ব অর্থাৎ সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন বুনছে বাংলাদেশ। ৬ জাতির এই আসরে বাংলাদেশ খেলবে ‘বি’ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ফিলিপিন্স ও লাওস। আর গ্রুপ ‘এ’তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপাল, তাজিকিস্তান ও ফিলিস্তিন। বাংলাদেশের গ্রুপে লাওস থাকার কারণেই স্বপ্ন বুনছে স্বাগতিকরা। কেননা ফর্ম ও পরিসংখ্যানের বিচারে একমাত্র লাওসকে হারানোর সম্ভাবনা আছে লাল-সবুজের দেশের। চলতি বছরের ২৭ মার্চ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে লাওসের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের কৃতিত্ব ছিল প্রথমার্ধেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও খেলা শেষ হওয়ার আট মিনিটের মধ্যে দুই গোল শোধ করতে পারা। বাংলাদেশের কাছে ওই ড্র ছিল জয়ের সমান। এবার বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সেই লাওসকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে বাংলাদেশের।
এদিকে ম্যাচ শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে থেকে মাঠে দর্শক আসতে শুরু করে। স্টেডিয়াম পাড়া জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়াস পাড়ায় তিল ধারনের জায়গা নেই।
দেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই ইভেন্টকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। ২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামে পর্যাপ্ত গোপন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। স্টেডিয়াম, প্রবেশপথ ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে করা হয়েছে সাজসজ্জার কাজ।
বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনকে সামনে রেখে খেলার মাঠ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কের মোড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে গোপন ক্যামেরা। পোশাক ও সাদা পোশাকের পুলিশের র‌্যাব ও বিজিবি আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় নিয়োজিত রয়েছে।
বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নগরের কিছু সড়কে যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। খেলা চলাকালে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবের পাঠানো যানবাহন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খেলা উপলক্ষে ১ অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত রোজভিউ হোটেল থেকে সোবহানীঘাট-নাইওরপুল-কুমারপাড়া-শাহীঈদগাহ-আম্বরখানা-মাজার গেইট-চৌহাট্টা এবং সিলেট জেলা স্টেডিয়াম, নগরের মির্জাজাঙ্গাল নির্ভানা-ইন হোটেল থেকে তালতলা-জিতুমিয়া পয়েন্ট-লামাবাজার পর্যন্ত যান চালাচল বন্ধ থাকবে।
একইভাবে যানবাহন চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকবে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম এবং শাহজালাল (রহ.) দরগাহের প্রধান ফটক সংলগ্ন স্টার প্যাসিফিক হোটেল মাজার গেইট থেকে চৌহাট্টা হয়ে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়কেও। ওই সময় নগরবাসীকে এসব রাস্তা ছাড়া অন্যান্য পথ ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেছে এসএমপি।

Share





Related News

Comments are Closed