Main Menu

তীব্র তাপদাহে অস্থির সিলেটের জনজীবন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: গত দুইদিনের প্রচন্ড তাপদাহে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সিলেট নগরীর সাধারণ মানুষ। এতে শিশুরা ছাড়াও গরমে সবচেয়ে বেশি কাবু হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধরা। তীব্র তাপদাহের কারণে দিনের বেলায় লোকজনের চলাচল অন্য সময়ের চেয়ে অনেকটাই কম।

সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সিলেটের তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা বেড়ে হয়েছে ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেটের তাপমাত্রা ২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

তীব্র গরমে অতিষ্ঠ সিলেটবাসীর জন্য সুখকর কোন বার্তা দিতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পাবে আগামীকাল শুক্রবার।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) আবহাওয়া বার্তায় বলা হয় সিলেটে আগামীকাল শুক্রবার দিনের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে তবে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে।

আগামী ২/৩ মধ্যে বৃষ্টির তেমন কোন সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে আবহাওয়া অফিস কর্মকর্তারা জানান, বছরের এমন সময়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে।

প্রচন্ড গরমে বৃহস্পতিবার নগরীতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। তবে জরুরী কাজ ছাড়া লোকজন বাসা-বাড়ি থেকে বের হতে দেখা যায়নি। প্রচন্ড গরমের ফলে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে।

কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্থি নেই। অতিষ্ট গরমে জন-জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। শ্রমজীবী মানুষ বাইরে বের হলেই অতিরিক্ত ঘামে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। ক্লান্তি দূর করতে কেউ পান করছেন ডাবের পানি, কেউবা খাচ্ছেন শসা। তাই প্রচন্ড গরমে, আনারস, ঠান্ডা পানি আর ডাব বিক্রি বেড়ে গেছে। লাচ্ছি জুস আর কোমল পানীয়ের ব্যবসাও বেশ জমজমাট। উপজেলা সদরের ফুটপাতে খোলা জায়গায় ঠান্ডা পানি, আনারস, ডাব বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রচন্ড গরমের ফলে দিনমজুর মানুষকে পুহাতে হচ্ছে চরম দূর্ভোগ।

রিকশা চালক আবুল মিয়া বলেন, আজ সকাল থেকে প্রচন্ড গরম পড়েছে। ফলে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক কম।

শ্রমজীবি জমির মিয়া বলেন, কাজের সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হই। কিন্তু যে গরম পড়ছে তাতে কাজ করা কোনো ভাবে সম্ভব নয়।

চিকিৎসক শিবলী খান সুস্থ থাকতে হলে রাস্তার ধারে ফুটপাতে খোলা জায়গায় বিক্রি করা শসা, আনারস, লেবুর শরবতসহ এসব খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। গরমে বাইরের খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। গরমে সবাইকে প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দেন। ঘরের পরিবেশ যতটা সম্ভব ঠান্ডা রাখা গেলে ডায়রিয়া ও শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশস্কা কম থাকবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, এই গরমে বেশিক্ষণ খোলা স্থানে থাকলে হিট স্ট্রোকের আশংকা বেশি থাকে। চলমান তাপদাহের প্রচণ্ড রোদের তাপ থেকে যতদূর পারা যায় নিজেদের ছায়ায় রাখার চেষ্টা করুন। অবশ্যই সুপেয় পানি পান করতে হবে। শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই গোসল করে শরীর পরিস্কার করে নেয়া ভাল। বিশেষ করে রোদ থেকে ফিরে ফ্রিজের রক্ষিত ঠাণ্ডা পানির সাথে নরমাল পানি মিশিয়ে খাওয়া উচিত। খুব সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ পরামর্শ দেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed