Main Menu

জিএম এসেছেন তাই, পাল্টে গেছে চিত্র

আবুল হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি: অত সুন্দর অইল কিলা বুঝলাম না। এই মন্তব্যটি সিলেট রেলস্টেশনের এক সিলেটি যাত্রীর। নাম হাসান আল বান্না। কলেজে পড়াশুনা করেন। বাড়ি সিলেট জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ঢাকা যাবেন, হঠাৎ তার মুখ থেকে এই মন্তব্যটি বের হল। নিজেরও কৌতুহল দেখা দিল। আমিও এক বিশেষ কাজে স্টেশনে গেলাম। স্টেশনের চেহেরা পুরোপুরি বদলে গেছে। শনিবার বেলা সোয়া ১টা। ১৫/ ২০ জন শ্রমিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত। অন্যদিকে ৪০/৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ সবাই একজনের জন্য অপেক্ষা করছেন। চিত্রটি হলো দেশের অন্যতম রেলস্টেশন সিলেটের। ঢাকা থেকে পারাবত এক্সপ্রেস প্রায় একটা ২০ মিনিটে পৌছল। ট্রেন থেকে একজন নেমে আসলেন। তাকে সবাই ঘিরে ফেললের। ভিআইপির মযার্দায় বরণ করে নিয়ে সিলেট রেল স্টেশন রেস্ট হাউজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। ট্রেনের যাত্রীরা এ সময় হা করে তাকিয়ে রইলেন। জানা গেল তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্রগ্রাম পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার ওমর ফারুক।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, জিএম ওমর ফারুক একদিনের জন্য সিলেট রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে এসেছেন। তার আসার সুবাদে পুরো রেলস্টশনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ টানা বেশ কয়েকদিন ধরে চলছে। তার আসার দিন ১৪ জুলাই শনিবার সকাল থেকে দুপুর অবধি পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা পরিষ্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

একটি সূত্র জানায়, এই রেলস্টশনে অসংখ্য পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও তারা কোন কাজ করেন না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে উদাসীন।

এ সময় সেশ্টশনের পশ্চিম পাশে ১৫/২০ জনের পরিচ্ছতা কর্মীর একটি দলকে দেখা গেল। সবাই রেলের উপরের ঘাস, আগাছা, পরিষ্কার করছে। তখন তাদের কাছে পরিষ্কারের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, ভাই কথা বলার সময় নাই। স্যার আসতেছেন।

ঐ সময় ষ্টেশনে দাড়াঁনো হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, সব সময় যদি স্টেশনটি এমন পরিষ্কার থাকতো তাহলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারত। কিন্তু স্টেশন কর্তৃপক্ষ বছরে একবারও পরিষ্কার করেন না। স্টেশনের চারপাশে সব সময় নোংরা আর্বজনা থাকে। দুর্গন্ধে নাক চেপে চলতে হয়।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সহকারি প্রকৌশলী মাহমুদ এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই কথা বলতে রাজি হননি। এ প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে কথা বললেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা না বলে জিএম সাহেবের কথা বলে লাইন কেটে দেন।

স্টেশন ম্যানেজার কাজী শহিদুর রহমানকে তার এই মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সিলেট রেলওয়ে জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহাঙ্গীর হোসাইন ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ ইন্সপেক্টর নূর মোহাম্মদ এই দুজনকে মুঠোফোনে কল দিলে দুজনই এ ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Share





Related News

Comments are Closed