Main Menu

গোয়াইনঘাটে ফের বন্যা, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় আবারো বন্যা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির প্রাদুর্ভাবে বিপদ সীমার ৪৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পিয়াইন ও সারী নদীর পানি। এতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের সর্বত্র প্লাবিত হয়ে ৫০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

প্রবল বন্যায় রোপায়িত আউশ ও বীজতলাসহ কৃষকের প্রায় সহস্রাধিক হেক্টর ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সারী-গোয়াইনঘাট ও সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বসত বাড়িতে পানি উঠায় পানিবন্দি হয়ে অনেকে গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন। পাশাপাশি ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পানি উঠায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের পুকুরপাড় তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে পুকুরের মাছ।

গত দিন দশেক আগে সপ্তাহব্যাপী বন্যায় ভাঙনের কবলে পড়া নদীর তীর ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর মেরামতের সুযোগ না দিয়ে আবারো আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ায় মহা দুর্ভোগে পড়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ। এ ছাড়াও বন্যায় পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও, রুস্তমপুর, ডৌবাড়ী, লেঙ্গুড়া, তোয়াকুল ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ আবারো দীর্ঘ পানিবন্দী হওয়ার আশঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন।

ইউপি সদস্য মো. জিলানি মিয়া জানান, আমার এলাকার প্রায় ৪৩টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এ ছাড়াও বেশ কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে জনসাধারণ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে কিছু জমির ফসল ও বীজতলা নিমজ্জিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে এর পরিমাণ বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোশাহিদ মিয়া জানান, বন্যার পানি বেড়ে এ পর্যন্ত ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি উঠায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। যার ফলে ওই বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকায় সাময়িকভাবে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বন্যার্তদের সাহায্যার্থে যে পরিমাণ ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে। তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তিনি বলেন বন্যার পানি বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষগুলো পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষের মাঝে পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা বরাদ্ধ দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের আহবান জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed