Main Menu

জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের জকিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিতদের দুর্ভোগ বাড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত গ্রামগুলোর লোকজনের বসবাসের উপায় নেই। পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও ভাইরাসজনিত জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। গৃহপালিত পশু পাখির খাবারও সংকটও রয়েছে চরমে।

গত কয়েকদিনের অধিক বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানিতে তোড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে জকিগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ। অনেক এলাকায় পানি নেমে গেলেও কাদা ও ভাঙা ব্রিজ, কালভার্ট ও রাস্তার কারণে মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে।

জকিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন, বীরশ্রী, বারঠাকুরী, কসকনকপুর, কাজলসার, বারহাল, মানিকপুর ইউনিয়নের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর বন্যা নিয়স্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে পানি লোকালয়ে এসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। বিভিন্ন ফিসারির অন্তত ১০ কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আউস ক্ষেত ও আমনের চারা, মৌসুমী শাক সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষককুলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

উপজেলার অধিকাংশ স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজের শ্রেণী কক্ষে এখনো পানি জমে আছে। কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে থাকায় মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে ঘরবাড়ি বাসযোগ্য না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে তারা।

সিলেট জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন ব্যাক্তিপর্যায়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এই ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় দুর্ভোগ কাটছে না।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, গত তিনদিন থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় ও উজান থেকে পানি না নামায় সুরমা কুশিয়ারার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে উজানে পানি কমতে শুরু করলেও ভাটিতে পানি ধীর গতিতে কমছে।

সিলেট জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান জানান, সিলেট জেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ২৩১ মেট্রিকটন চাল ও তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলোতে সব ধরনের সরকারী সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন কুমার সিংহ জানান, জকিগঞ্জের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৩৭ টন চাল বরাদ্ধ হয়েছে। এখনো বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় বন্যার পানি থাকায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পানি কমার পর পরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের তালিক প্রস্তুত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে সরকারী সহায়তা দেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed