Main Menu

একই রাতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৬

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের ছয়টি জেলায় একদিনে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয়জনের নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বরিশাল, ময়মনসিংহ, ফেনী, দিনাজপুর, যশোর ও টাঙ্গাইলে শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত এসব বন্দুকযুদ্ধ হয়।

নিহতদের চারজনকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’, একজনকে ‘ডাকাত দলের সদস্য’ এবং অপরজনকে ছিনতাইকারী বলছে পুলিশ।

বরিশালা: ব‌রিশাল মহানগর পু‌লিশের কাউ‌নিয়া থানার ও‌সি নুরুল ইসলামের ভাষ্য, শনিবার রাত ৩টার দিকে শা‌য়েস্তাবাদ ইউ‌নিয়‌নের দ‌ক্ষিণ চরআইচা গ্রা‌মের বটতলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় একদল ডাকাত ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভি‌ত্তিতে ওই এলাকায় ডি‌বি পু‌লি‌শের একটি দল অভিযানে গেলে ‘ডাকাত সদস্যদের’ সাথে গুলিবিনিময় হয়্ তাদের। এক পর্যায়ে ডাকাত সদস্যরা পালি‌য়ে যায়। প‌রে ঘটনাস্থ‌ল থেকে এক‌ যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন,নিহত যুবকের বয়স আনুমালিক ৩৮ বছর। ঘটনাস্থল থে‌কে একটি পাইপগান, একটি রামদা, একটি চাপা‌তি, আট রাউন্ড গু‌লির খা‌লি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডি‌বি পু‌লি‌শের এসআই দে‌লোয়ার, কনস্টেবল র‌ফিক ও হাফিজ আহত হয়েছেন, বলেন ওসি।

এ বিষয়ে শা‌য়েস্তাবাদ ইউ‌নিয়ন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না জানান, ‌নিহত ‘ডাকাত সদস্য‌কে’ স্থানীয়রা কেউ চিন‌তে পা‌রে‌নি। ত‌বে ক‌য়েক‌দিন আ‌গে আঃ হক হাওলাদা‌রের বাসায় যে ডাকা‌তির ঘটনা ঘ‌টে‌ছে সে সময় এই যুবক‌কে তিনি দে‌খে‌ছি‌লেন ব‌লে জা‌নান।

ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে নিহত রাজিউল হাসান বিপ্লবকে (৪৫) ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে দাবি করেছে পুলিশ। সে মহানগরীর চরপাড়া এলাকার মৃত বিল্লাল হোসেনের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মহানগরীর মাসকান্দা গনষারা মোড় এলাকায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান গেলে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গুলিবিনিময় হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিপ্লবকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থল থেকে হেরোইনসহ মাদক উদ্ধারের কথা জানান জেলা ডিবি পুলিশের এই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, বিপ্লব নগরীর মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুদি ব্যবসা করতো। তার নামে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ফেনী: ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠান নগরে পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আলমগীর হোসেন ভুঞা নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আলমগীর পশ্চিম পাঠান গড় এলাকার মৃত আব্দুস সালাম ভুঞার ছেলে। পুলিশের দাবি, সে ‘মাদক ব্যবাসায়ী’।

ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম মোর্শেদ জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তারা ছাগলনাইয়ার পাঠান নগর ইউনিয়নের পশ্চিম পাঠান গড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে।

‘এক পর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে আলমগীর হোসেন ভুঞাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন, বলেন ওসি।’

তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি কাটা বন্দুক, তিন রাউন্ড কার্তুজ, এক হাজার পিস ইয়াবা ও একশ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত আলমগীর হোসেন ভুঞার বিরুদ্ধে ছাগলনাইয়া থানার মাদক ও অস্ত্র আইনের নয়টি মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দিনাজপুর: দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গালকাটা বাবু (৪৫) নামে একজনের নিহতের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাবু ‘মাদক ব্যবসায়ী’। তিনি উপজেলার ২নং ফরাক্কাবাদ ইউনিয়নের তেঘরা নারায়নপুর গ্রামের মৃত: ওহাব আলীর ছেলে।

থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মজিদের ভাষ্য, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সরদারপাড়া নামক এলাকায় রবিবার ভোরে অভিযানে যায় একদল পুলিশ সদস্য। এ সময় ৭/৮ জনের ‘মাদক ব্যবসায়ীর’ একটি দল পুলিশের উপর হামলা করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই গালকাটা বাবু নিহত হয়।

‘ঘটনাস্থল থেকে দুটি সামুরাই, ৪টি ককটেল, ২টি নলা পিস্তল ও ১৯৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের কথা জানান ওসি।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ কনস্টেবল শহীদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওসি বলেন, নিহত বাবুর নামে মাদক আইনে ৯টি মামলা রয়েছে।

যশোর: যশোরের রগুরামপুর এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডালিম (৩৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৪টায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কেএম আজমল হুদা বলছেন, চোরাকারবারীদের দুটি দলের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় সেখানে ডালিমের মরদেহ সেখানে পড়ে থাকে।

‘ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ ইয়াবা, একটি ওয়ানশুটার গান ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার কথা জানান ওসি।’

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী দক্ষিণপাড়া ব্রিজের কাছে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তার নাম ইমন (২২)।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হকের ভাষ্য, শনিবার রাত ২টায় বাস থামিয়ে ছিনতাই হচ্ছে এমন খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ছিনতাইকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ওই স্থান থেকে ইমনকে উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এসআই মনিরুজ্জামান ও আলী আজম আহত হয়েছেন। তাদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নিহত ছিনতাইকারীর বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এর আগে গত শুক্রবার রাতেও র‌্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যশোরের অভয়নগরে তিনজন এবং ময়মনসিংহের নান্দাইলে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ একজন নিহত হয়। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চাপাইনবাবগঞ্জে একজন ও চট্টগ্রামে দুজন নিহত হয়েছেন।

গত তিনদিনে চট্টগ্রাম, যশোর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, ফেনী, দিনাজপুর ও টাঙ্গাইলে র‌্যাব ও পুলিশের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১৩ জন নিহত হলেন। নিহতদের একজনকে ‘ছিনতাইকারী’, একজনকে ‘ডাকাত দলের সদস্য’ আর বাকি সবাইকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ বলে দাবি করেছে র‌্যাব ও পুলিশ।

Share





Related News

Comments are Closed