নবীগঞ্জে বউ-শাশুড়ি হত্যার জট খুলেনি, থানায় মামলা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হওয়া বউ শাশুড়ি হত্যার জট খুলেনি। ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে। নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার পুত্রবধূ রুমি বেগম এবং শাশুড়ী মালা বেগমের জানাজার নামাজে হাজারো মানুষের ঢল নামে। জানাজায় অংশ নিতে লন্ডন প্রবাসী পুত্র আখলাক চৌধুরী গোলজার ও বড় ভাই আলতা মিয়া চৌধুরী সোমবার রাতেই দেশে ফিরেছেন। এ ঘটনায় নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে ১৪ মে সোমবার রাতে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে পুলিশ ঘটনার ৪দিন অতিবাহিত হলেও খুনের উল্লেখযোগ্য কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। আটককৃতদের গত দু’দিন ধরে শুধু জিজ্ঞাসাবাদই হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডের কোন তথ্য বের হয়েছে কি না, এ বিষয়ে পুলিশ সাংবাদিকদের কোন তথ্য জানাতে পারেনি। হত্যাকান্ডের পর থেকে থানা পুলিশের পাশাপাশি, হবিগঞ্জের পিবিআই, ডিবি. ডিএসবি ও র্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েস্থা সংস্থা ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে জানাজার নামাজের পুর্বে দেয়া বক্তৃতায় নিহত রুমি বেগমের স্বামী ও মালা বেগমের একমাত্র সন্তান লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী গুলজার এবং রুমির পিতা সুজন মিয়া চৌধুরীসহ শোকার্ত গ্রামবাসী দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মম এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনসহ প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রবিবার রাতে উপজেলার কুর্শি ইউনিয়মের সাদুল্লাপুর গ্রামে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার স্ত্রী ও লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরীর মা মালা বেগম ও তার স্ত্রী রুমি বেগম। ওই রাতে আর্তচিৎকার শুনে গ্রামবাসী ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের বাইরে উঠানে গৃহবধূ রুমি বেগম ও ঘরের ভিতরে তার শাশুড়ি মালা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখতে পান। এসময় তাদের উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে লাশ দু‘টির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে। এঘটনার পর ঘর থেকে ৪টি চায়ের কাপ, একটি হাতঘড়ি ও একটি জুতা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে । পরদিন সোমবার সকালে পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। সংবাদ লেখা পর্যন্ত তাদেরকে আদালতে সোর্পদ করার খবর পাওয়া যায়নি।
এ জোড়া খুনের বিষয়ে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মো: শাহ আলম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না। তথ্য উদঘাটন হলে এসপি মহোদয় সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানাবেন। বাহুবল সার্কেল এসপি পারভেজ আলম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে নিহত রুমির ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। শিগগিরই এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Related News
শিক্ষার্থীদের পরিবহন সুবিধায় হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস সেবার উদ্বোধন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা সহজ ও নিরাপদ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনRead More
হবিগঞ্জে ২০ হাজার টাকা আত্মসাত করতে নিজ বোনকে খুন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাওনা ২০ হাজার টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাত করতে বোনকে ছুরিকাঘাতে হত্যারRead More



Comments are Closed