মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
তথ্য প্রযুক্তি ডেস্ক: মহাকাশের পথে যাত্রা করলো লাল সবুজের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই স্বপ্ন ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ থেকে মহাকাশ পানে যাত্রা শূরু করল ১১ মে শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টা ১৪ মিনিটে। এর আগে রাতে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে প্রস্তুতি শুরু হওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
এর আগে ১০ মে বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ এর যাত্রা বাতিলের পর স্পেসএক্স জানিয়েছিল শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়। ওড়ানের জন্য রাখা রিজার্ভ ডে শুক্রবার রাত একই সময়ে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে করে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মহাকাশে পাড়ি জমানোর কথা ছিল। পরে সেই সময় বাড়িয়ে ৩টা ৪৭ মিনিটে নির্ধারণ করা হয়। পরে সময় আরও ১৫ মিনিট বাড়িয়ে ৪টা ২ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা বলা হয়। সবশেষে ৪টা ৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের স্থগিতের কথা জানায় স্পেসএক্স।
স্পেস এক্স ওয়েবসাইটে আরো জানিয়েছে এর উৎক্ষেপণযান বা রকেট ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে মহাকাশে ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত অরবিট প্লটে স্থাপন করবে।
বিশেষ এই ক্ষণের স্বাক্ষী হতে ইউটিউবে, টেলিভিশনের পর্দায় চোখ ছিল বিশ্বজুড়ে বাঙালির। এ যেন স্যাটেলাইটের মহাকাশযাত্রা নয়, বাঙালির মহাকাশযাত্রা। অনেকে আবার নিজের এলাকায় টাঙানো বড় পর্দায় প্রত্যক্ষ্য করবেন বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু-১’কৃত্তিম উপগ্রহের মহাকাশের পথে রওনা হওয়ার মূহুর্তটি।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে দুই হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ সফলভাবে পৌঁছেছে নির্দিষ্ট কক্ষপথে। শুক্রবার রাত ২টা ৪৭ মিনিটে এটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে। এর আগে রাত ২টা ১৪ মিনিটে এটি মহাকাশের পথে যাত্রা করে। স্যাটেলাইটটি সফলভাবে উৎক্ষেপন হওয়ায় সারাদেশে আনন্দের বন্যা বইছে।
এদিকে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন উপলক্ষে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জড়ো হন সিলেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম এবং জেলা প্রশাসক নুমেরী জামান উপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনকে দেশের বিশাল বিজয় হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, নিজস্ব স্যাটেলাইটের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫৭ তম দেশ। ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রজেক্ট নেয়া নেয় সরকার। বিটিআরসি ২০১৫ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিস কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টার স্পুটনিক’র কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট কেনে। একইসাথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য স্পেস এক্স’র ফেলকন-৯ লঞ্চার ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও চুক্তি করে বাংলাদেশ। এখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের মহাকাশ যাত্রার নতুন দিগন্ত।
সরাসরি দেখুন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর উৎক্ষেপণ
Related News
হঠাৎ দেশের আকাশে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের আকাশে দেখা মিলেছে মনোমুগ্ধকর এক মহাজাগতিক দৃশ্য। সরু বাঁকা চাঁদের পাশেRead More
ফেসবুকের ভেরিফায়েড ব্যাজ এবার মিলবে ফ্রিতে, যেভাবে পাবেন
প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমানে ক্রমশ আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই-ভিত্তিক ভুয়া প্রোফাইল, ছবি-ভিডিওসহ বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়েRead More



Comments are Closed