Main Menu

তাহিরপুরে যুবলীগ নেতা ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

তাহিরপুর প্রতিনিধি: হাওরের বাঁধে উঠায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ৫ বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়ার ডান হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছিলেন যুবলীগ নেতা ও ২৮নং পিআইসির সভাপতি অদুদ। এ ঘটনায় অদুদ মিয়া ও তার সহোদর আলম মিয়াকে আসামী করে সোমবার রাত ১১টায় ইয়ামিন মিয়ার বাবা শাহানুর মিয়া বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং ১৪, তারিখ-১৯,০৩,১৮ইং।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নন্দন কান্তি ধর মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আব্দুল অদুদ মিয়ার ছোট ভাই আলম মিয়া (৩০)কে রবিবার রাতে আটক করা হয়েছে। তাকে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ঐ পিআইসি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্রেফতার করার চেষ্টা করছি
যুবলীগ নেতা আব্দুল অদুদের বর্বরতার শিকার হবার এই ঘটনার পর বিভিন্ন গনমাধ্যমে খবরটি জোরালো ভাবে প্রকাশ হলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রবিবার রাতে ছুটে যান সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বরকত উল্লাহ খান। তিনি শিশুটির চিকিৎসার খোজঁ খবর নেন এবং ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসার সকল ব্যায় ভার নিয়েছেন।
তিনি তাকে ও তার মা, বাবাসহ পরিবারের সবাইকে সান্তানা দিয়ে বলেন ইয়ামিন মিয়ার চিকিৎসা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল খরচ বহন করবেন। তখন তিনি শিশুটির মা দিলরাজ বেগমের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা ও নতুন কাপড় ও ফল তুলে দেন।
এসময় তিনি বলেন, আমি সহ আমার পুলিশ বাহিনী খুবই মর্মাহত এই ঘটনা শুনে। তার বিষয়ে বার বার খোঁজ নিচ্ছেন মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, পুলিশ প্রধান ও ডিআইজি মহোদয়। তিনি বলেন, আব্দুল অদুদ সে যত বড় ক্ষমতাশালী হউক বা যে দলই করুক না কেন তাকে এই নির্মম বর্বরতার শাস্তি পেতে হবে। তাকে খুব দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। কোন ছাড় পাবে না।
এছাড়াও রবিবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলামসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাগন সহ ইয়ামিন মিয়াকে দেখতে যান এবং তার সার্বিক বিষয়ে খোজঁ খবর নেন। এদিকে, সুনামগঞ্জ ১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন শিশু ইয়ামিন মিয়ার বাড়ি সোলাইমাননপুর গিয়ে তার স্বজনদের সান্তনা দেন এবং নগত ১০ হাজার টাকা তাদের হাতে তুলে দেন।
ইয়ামিন মিয়ার পিতা শাহানুর জানান, বাঁধে ক্ষতি হলে আমার কাছে বিচার দিত। আর এমন কি ক্ষতি হয়েছে তাকে এভাবে আঘাত করতে হবে। আমার ছেলের হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দিয়েছে অদুদ। আমার ছেলে এখন লেখাপড়া করবে কি করে। আমি অদুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি আইনের মাধ্যমেই তার কঠিন শাস্তি চাই।
উল্লেখ্য, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় গত শনিবার (১৭মার্চ) বিকালে ৫ বছরের শিশু ইয়ামিন মিয়া নিজেদের গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য ঘাস কাটতে মহালিয়া হাওরের ময়না খালি বাধেঁর উপর দিয়ে হেটেঁ যাচ্ছিল হাওরে। এমন সময় হঠাৎ করেই সে বাধেঁর উপর থেকে গড়িয়ে বাঁধের নিচে পড়ে যায়।
এতে নির্মানাধীন বাঁধের ড্রেসিং করা কাজে সামন্য ক্ষতি হয়। এসময় সাবেক যুবলীগ নেতা ও মহালিয়া বাধেঁর পিআইসি (নং ২৮) সভাপতি অদুদ মিয়া বিষয়টি দেখতে পেয়ে ইয়ামিন মিয়াকে মারধর করে একপর্যায়ে হাতে থাকা ঘাস কাটার কাচিঁ কেড়ে নিয়ে হাতের ৩টি আঙ্গুল কেটে দেয়।
পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় ইয়ামিন মিয়াকে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। সন্ধ্যার পরে আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে।
আব্দুল অদুদ দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে। আহত শিশু একই গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে ও সুলেমানপুর শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ১ম শ্রেনীর ছাত্র।
এঘটনা জানাজানি হলে জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গুরুত্বর আহত ইয়ামিন মিয়া বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed