জাবির নবীন শিক্ষার্থীদের ঠাঁই হলো গণরুমে
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের দূর-দূরান্ত থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য ছুটে আসা ১ম বর্ষের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর ঠাই হয়েছে জাবি’র গনরুমে। দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকার জায়গা নেই তাদের। ক্লান্ত শরীরে রাতে অনেকে বসে বসেই ঘুমাচ্ছেন। গত রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এমন চিত্র দেখা গেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুর আলম হিমেল ও সাধারণ সম্পাদক নিলয় মামুন ফোন দেন হলটির প্রাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদকে। ঘুম থেকে উঠে তিনি ছুটে আসেন। তারপর তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকার জায়গা করে দেন হলের টিভি ও পত্রিকা পড়ার রুমে।
এ চিত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি হলেই দেখা গেছে। গত সোমবার ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর থাকার জায়গা না করেই ক্লাস শুরু করে দিয়েছে প্রশাসন। দেশের একমাত্র আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবার পরিজন ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে করুণ পরিস্থিতির মুখামুখি হতে হলো তাদেরকে। রাত কাটাতে হয়েছে গণরুমের মেঝেতে বিছানা পেতে। তাও কোন কোন হলে সে জায়গাটুকুও হয়নি। যেসব রুমকে গণরুম হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যাবস্থা করা হয়েছে, তা মূলত থাকার জায়গা না। হলগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণরুম হিসেবে ব্যবহৃত এসব রুম মূলত রিডিং রুম, গেস্ট রুম, রান্না করার রুম, হল সংসদের রুম, টিভির রুম, পত্রিকা পড়ার রুম, ডাইনিং ও ক্যান্টিনের রুম। আর এসব রুমেই ঠাঁই হয়েছে ১ম বর্ষের এসব শিক্ষার্থীদের। হল প্রশাসন বলছে, এসব রুমেই ১ম বর্ষের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীকে থাকতে হবে ১ বছরের মতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের ৪০ ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আবাসিক হলেই অবস্থান করার কথা। বিশেষ কোনো কারণ ছাড়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে পারবে না। হলের আসন সংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। অথচ গত কয়েকবছর ধরে আবাসনের ব্যবস্থা না করে অপরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। তাই নতুন হল নির্মাণ করেও এ সমস্যার সমাধান করা যাচ্ছে না।
হল প্রশাসন বলছে, ‘অনেক আগে পড়াশুনা শেষ করা বহু সাবেক শিক্ষার্থী হলে সিট দখল করে আছে। বার বার সিট ছেড়ে দিতে বললেও তাদের টনক নড়ছে না। যার কারণে আবাসন সমস্যা আরো বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘ছেলে ও মেয়েদের জন্য দুটি করে মোট ৪টি হল নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আশা করছি এ হল ৪টি নির্মাণ হলে আবাসন সংকট কমে যাবে।’
Related News
একাদশে ভর্তিতে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন শুরু ২৭ সেপ্টেম্বর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য দ্বিতীয় ধাপে অনলাইনে ভর্তি আবেদন আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরRead More
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও আবেদনের সুযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছেRead More



Comments are Closed