Main Menu

মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙ্গন: ঝুঁকিতে দুই ইউনিয়ন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় নির্মিত মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙ্গনের ফলে নদীতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন হাজীপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা।

ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাজিপর ইউনিয়নের মন্দিরা এলাকায় মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধে বিশাল ভাঙন শুরু হয়েছে। নদের মধ্যে ধসে পড়েছে মাটিসহ গাছপালা । সেখানে দেখা যায়, ঔই নদী তীরবর্তী সুধাংশু শীলের বাড়ির কাছের পাড় ভাঙতে ভাঙতে দুই-তিন ফুটের মতো বাকি রয়েছে। নদের পানি বাড়লে চোখের পলকেই অংশটিও নদের গর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকা রয়েছে। নদের পাড় দিয়ে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ আসা-যাওয়া করেন। এতে দুর্ঘটনা হওয়ার আশংকায় গ্রামবাসী ভাঙনকে ঘিরে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথরুদ্ধ করে রেখেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর ধরে মনু নদের মন্দিরা এলাকার বাঁধের ছোট ছোট অংশ ভেঙ্গে পড়ে। তবে তখন আতঙ্ক হওয়ার কোন অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে মনু নদে পানি বাড়লে মন্দিরা অংশে বিশাল ভাঙন দেখা দেয়। গাছপালাসহ বাঁধের প্রায় দুই হাজার ফুটের মতো এলাকার পাড়ের মাটি ধসে পড়ে।

এতে করে মন্দিরা গ্রামের অন্তত ৫০টি পরিবার ঝুঁকি ও আতংকের মধ্যে রয়েছেন। হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী সদস্য প্রনতি আচার্যের বাড়ি মন্দিরা গ্রামে। তিনি জানান, ‘নদের বাঁধ ভেঙ্গে বসট ভিটার উপর চলে আসছে। আমরা খুব আতংকের মধ্যে রয়েছি, যেকোন সময় ভিটেহীন হয়ে পড়ব’।

এছাড়াও, রাজাপুরসহ পাশ্ববর্তী ছইদল বাজার ও কলিরকোনা এলাকার প্রায় দুই হাজার লোক নদের বাঁধ দিয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়নসহ উপজেলা সদরে যাতায়াত করেন। তবে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। ১৫ থেকে ২৫ ফুট চওড়া বাঁধ হলেও ভাঙনকবলিত স্থানে বাঁধটি ৫ থেকে ৭ ফুট হয়ে গেছে। তারই মধ্যে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে ওই স্থান দিয়ে চলাচল করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী জানান, ‘মনু নদের প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘুরে দেখে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। ক্ষতি ঠেকাতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে মেরামত করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।’

Share





Related News

Comments are Closed