Main Menu

কানাইঘাটে সুরমার ডাইকে ভাঙ্গন, নদীতে বিলীন বসত-ঘর

কানাইঘাট প্রতিনিধি : সুরমা নদীর কানাইঘাট অংশে ফের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত বুধবার দিবাগত রাতে আচমকা ভাঙ্গনে তলিয়ে গেছে পৌরসভার বায়মপুর (গৌরিপুর) গ্রামের বেশ ক’টি বসত-ঘর ও ফসলি জমি। একই সাথে সাতবাঁক ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে ভবানীগঞ্জ পাকা সড়ক দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে পদক্ষেপ না নিলে ভাঙ্গন তিব্র আকার ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত ৯টার দিকে সুরমা নদীর ভাঙ্গন কবলিত গৌরিপুর ডাইকে হঠাৎ করে ভাঙ্গন দেখা দেয়। একপর্যায়ে খেয়াঘাট টু ভবানীগঞ্জ পাকা সড়কের সুরমা ডাইকের অংশ সহ কয়েকটি বসত বাড়ী, গাছপালা সহ সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন দেখে আতংকিত হয়ে পড়েছেন এলাকার লোকজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ‘বায়মপুর গৌরিপুর সুরমা ডাইকের অংশ ভাঙ্গন প্রতিরোধে তারা বার বার পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু মেয়র নিজাম উদ্দিন এ ব্যাপারে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নি।’

নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়া গৌরিপুর গ্রামের বাবুল আহমদ, সেলিম, নুর উদ্দিন, আব্দুল করিম, শাহীন আহমদ সহ কয়েকজন কান্না জড়িত কন্ঠে জানিয়েছেন, ‘বুধবার রাতের ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনে তাদের বসত বাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। সময়মতো পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌর কর্তৃপক্ষ গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ছোট ভাঙ্গন অংশটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহণ করলে তারা আজ বাড়ী ঘর হারাতেন না। বর্তমানে আতংকের মধ্যে বিলীন হয়ে যাওয়া ভিটে বাড়ীর একাংশে তারা বসবাস করছেন।’

এদিকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা ও পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। পানি উন্নয়ন বোর্ডে উদ্যোগে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বাঁধ নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা।

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত বছর পৌরসভার উদ্যোগে কাজ করা হয়েছিল। গত বুধবার থেকে সেখানে বাঁশের গড় মেরামত সহ অন্যান্য কাজ চলমান থাকা অবস্থায় এই ভয়াবহ ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে পৌর কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের গাফলতি ছিল না, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলার শরিফুল হককে দায়ী করে তিনি বলেন, সে বরাদ্দে প্রাপ্ত টাকার কাজ করতে গড়িমসি করেছে। যাদের বাড়ী ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে তাদেরকে পৌরসভার পক্ষ থেকে নগদ ২১ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে। ভাঙ্গনের বিষয়টি তিনি স্থানীয় এমপি সেলিম উদ্দিন ও সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ারকে অবগত করেছেন।’

পৌর কাউন্সিলর শরিফুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বার বার পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিনকে গৌরিপুর সুরমা ডাইকের ভাঙ্গন কবলিত অংশটি পৌর ফান্ড দিয়ে মেরামতের জন্য বলেছি। আমার এলাকার লোকজন বার বার মেয়র সাহেবের স্মরনাপন্ন হলেও তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। গত বছর ভাঙ্গন প্রতিরোধে মেয়র নিজাম উদ্দিন ১৬ হাজার টাকা দিয়েছলেন, বর্ষা মৌসুমে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে এলাকার লোকজন মেয়রের স্মরনাপন্ন হলেও তিনি একটি বারও এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেননি। ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম রানা ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে চাঁদা তুলে প্রায় ৭০ হাজার টাকা কাজ আমি করেছিলাম। কিন্তু এখন মেয়র সাহেব তাঁর ব্যর্থতা আমার উপর চাপাচ্ছেন।’

Share





Related News

Comments are Closed