শিমুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান
মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫টি পদের বিপরীতে ২জন শিক্ষক কর্মরত থাকায় মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে কমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম। সকল প্রকার নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে সেই বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষিকার অন্য স্কুলে সংযুক্তি প্রদান করায় ক্ষোভ বিরাজ করছে অভিভাবক সহ এলাকাবাসীর মধ্যে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই সংযুক্তি আদেশ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগও।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি দ্বিতীয় ধাপে জাতীয়করণ করা হয় ২০১৩ সালে। ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহ ৫ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ইন্তেজার রহমান, মমতা রানী ও কামনা রানী নামে ৩ জন শিক্ষক। সহকারী শিক্ষক ইন্তেজার রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কামনা রানী নামে একজন জয়পুরহাট পিটিআইতে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। ইন্তেজার রহমান ও মমতা রানী দুই জনে দীর্ঘ দিন ধরে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এ অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম একেবারেই ভেঙে পড়েছে। অথচ ওই বিদ্যালয়ের অপর এক সহকারী শিক্ষিকা সুইটি বেগম ২০১৫ সাল থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংযুক্তি আদেশে জয়পুরহাট শহর সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছেন। যেখানে ৬ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে ৬ জন শিক্ষকই কর্মরত আছেন। সংযুক্তি আদেশে আসা সুইটি বেগমকে দিয়ে শিক্ষক সংখ্যা হচ্ছে ৭ জন। যা পদ সংখ্যার অতিরিক্ত। শিক্ষক কম থাকা স্কুলে সংযুক্তি আদেশে শিক্ষক দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে সেই নিয়মকে উপেক্ষা করা হয়েছে।
এদিকে শিমুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে লেখাপড়া বিঘ্ন হচ্ছে মর্মে সুইটি বেগমের সংযুক্তি আদেশ বাতিল চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাঠানো পত্র দীর্ঘ দিনেও কার্যকর হয়নি। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের খাম খেয়ালিপনায় বন্দী হয়ে পড়েছে শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন।
এদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে একই সময়ে দুটি ক্লাসে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে বলে জানান- ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইন্তেজার রহমান।
ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রমনাথ বর্মণ, নুপুর ও ইতি রানী জানায় শিক্ষক না থাকায় ক্লাস ঠিক মতো হয় না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি যোগেন চন্দ্র বর্মণ জানান, সুইটি বেগমের ডেপুটেশন বাতিলের জন্য বার বার আবেদন নিবেদন করেও লাভ হয়নি।
ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মো. নুরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার মানও ভেঙে পড়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন এই বিদ্যালয় থেকে বেতন তুলবেন অথচ কাজ করবেন অন্য এক বিদ্যালয়ে এ কেমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা বিভাগের।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইন্তেজার রহমান জানান, শিক্ষক সংকটে আমি দিশেহারা। মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে একটা বিদ্যালয় চলতে পারে কি ? অফিসের কাজেও বাইরে যেতে পারি না।
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবীর জানান, শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে সুইটি বেগমের মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সংযুক্তি আদেশ বাতিল করার জন্য ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট মহাপরিচালকের নিকট পত্র দিয়েছি। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
Related News
১৯ মার্চ থেকে শুরু হবে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (জিএসটি) গুচ্ছভুক্ত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭Read More
একাদশে ভর্তি: একজন শিক্ষার্থীও পায়নি সিলেটের ১০ কলেজ, আসন পায়নি ৪৫৫ জন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে একজন শিক্ষার্থীও না পাওয়া কলেজের সংখ্যা বাড়ছে। এবছরওRead More



Comments are Closed