Main Menu

১৩ কোটি বছর আগের সংঘর্ষ; পৃথিবীতে তরঙ্গ পৌঁছেছে এখন

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দুটো নিউট্রন তারকার সংঘর্ষের ফলে যে শব্দটি তৈরি হয়েছিলো বিজ্ঞানীরা এই প্রথম সেটি রেকর্ড করেছেন। নিউট্রন তারকা হলো মৃত নক্ষত্র। এগুলো একটি আরেকটির চারপাশে ঘুরছিলো। মরে যাওয়ার পর একটি অপরটির কাছে আসতে আসতে এক সময় একটি আরেকটির উপর আছড়ে পড়েছে।

তারপর বিশাল এই বিস্ফোরণের শক্তি ছড়িয়ে পড়ে এই মহাজগতে। এই সংঘর্ষটি ঘটেছিলো আজ থেকে ১৩ কোটি বছর আগে যখন আমাদের এই পৃথিবীতে ডায়নোসর বিচরণ করতো। বিবিসির সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনটিই উঠে এসেছে।

তবে এই সংঘর্ষের কারণে মহাকাশে যে তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিলো সেটি আমাদের কাছে সবেমাত্র এসে পৌঁছেছে। একে বলা হয়, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ। এই তরঙ্গের কোন শব্দ নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এই তরঙ্গের ফ্রিকোয়েন্সিকে রূপান্তর ঘটিয়ে শব্দে পরিণত করতে পারেন যা আমরা শুনতে পারি।

বড় ধরনের এই বিস্ফোরণে পৃথিবীতে দুর্লভ ও মূল্যবান কিছু ধাতব পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ ও প্লাটিনাম। বহু কোটি বছর আগে নিউট্রন স্টারের এই সংঘর্ষ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গ বিজ্ঞানীরা ধরতে সক্ষম হয়েছেন গত সপ্তাহে।

Manual6 Ad Code

ব্রিটেনের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং বলেছেন, এই আবিষ্কার একটি দারুণ ঘটনা। তিনি বলেন, “বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে দেখার জন্যে এ এক নতুন জানালা। মহাজগতে এরকম অনেক বিষয় আছে যা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায় নি। এসব আমাদের বিস্মিত করে। এখনও আমরা আমাদের চোখ কান কচলাচ্ছি, কারণ মহাকর্ষীয় তরঙ্গের শব্দে আমরা সবেমাত্র জেগে উঠলাম”।

এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গটিকে শনাক্ত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় সৃষ্ট দীর্ঘ এক সুড়ঙ্গে, লেজার রশ্মির সাহায্যে। এই সুড়ঙ্গটির নাম লাইগো। প্রায় আড়াই মাইল লম্বা এবং এটি পৃথিবীতে সম্ভবত সবচেয়ে বড় কোন সরল রেখা। এরকম একটি সুড়ঙ্গে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ কিভাবে শনাক্ত করা হলো?

Manual5 Ad Code

লাইগো ডিটেক্টরের একজন বিজ্ঞানী প্রফেসর নোনা রবার্টস বলছেন, “মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আড়াই মাইল দীর্ঘ এই টানেলে বসানো আয়নাকে খুব সামান্যই সরাতে পেরেছে। যতোটুকু সরিয়েছে তার পরিমাণ একটি পরমাণুর চাইতেও বহু গুণে কম। সেখান থেকেই এই তরঙ্গটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।”

নোনা ও তার সহকর্মীরা মিলে এই মহাকর্ষীয় তরঙ্গকে শনাক্ত করেছেন। তারা বলছেন, এসব নক্ষত্র আকারে খুবই বড় ছিলো। আমাদের সূর্যের সমান।

লাইগো প্রকল্পে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছেন পদার্থ বিজ্ঞানী প্রফেসর গ্যাব্রিয়েলা গঞ্জালেস। তিনি বলছেন, “ঠিক এই জিনিসটার জন্যেই আমরা দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছিলাম। আমরা জানি না আসলেই আমরা ভাগ্যবান কিনা, কারণ এরকম একটি ঘটনা ঘটে গেছে এবং সেটি ঘটেছে তুলনামূলকভাবে আমাদের এই পৃথিবীর খুব কাছেই।”

“তবে এটি একটি বিরল ঘটনা। অথবা এমনও হতে পারে এই মহাজগতে যতো নিউট্রন স্টার আছে বলে আমরা ধারণা করেছিলাম, এসব নক্ষত্রের সংখ্যা হয়তো তার চাইতেও অনেক বেশি। সেসব আমরা এখনও জানি না। তবে অবশ্যই আমরা জানতে পারবো।”

Manual8 Ad Code

মহাকর্ষীয় তরঙ্গ শনাক্তকারী এই যন্ত্রটিকে আরো আধুনিক করার কাজ চলছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই যন্ত্রের সাহায্যে তারা হয়তো অতীতে ঘটে যাওয়া এরকম আরো বহু বিপর্যয়কর মহাজাগতিক ঘটনার ইতিহাসের সন্ধান পাবেন।

তারা বলছেন, মহাকাশে হয়তো তারা এরকম আরো কিছু বস্তু আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন, যেসব সম্পর্কে আমরা এখনও কল্পনাও করতে পারিনি।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code