Main Menu

বিয়ানীবাজার কলেজে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা, আটক ৩

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: আধিপত্যের জের ধরে সোমবার দুপুরে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে শ্রেণী কক্ষে ঢুকে খালেদ অহমদ লিটু (২৩) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। লিটু ছাত্রলীগের পাভেল গ্রুপের কর্মী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কলেজের স্নাতক সম্মান শ্রেনির আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হচ্ছে-ছাত্রলীগ নেতা পাভেল গ্রুপের কর্মী কামরান, ফাহাদ ও এমদাদ।
জানা গেছে- দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কলেজের পূর্ব পাশের্^র ইংরেজি বিভাগের ভিতরে গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলির শব্দ শুনে পুলিশ গিয়ে ইংরেজি বিভাগের শ্রেণি কক্ষে গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত লিটুকে দেখতে পায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিটু ঘটনাস্থলে নিহত হয়। তার মাথায় ডান চোখের সামনে দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়।
নিহত খালেদ আহমদ লিটু (২৩) পৌর এলাকার পন্ডিতপাড়া (নয়াটিল্লা) গ্রামের হাজী ফয়জুর রহমানের ছেলে। পৌরশহরের নয়াগ্রামে তার একটি মোবাইল দোকান রয়েছে। সে ছাত্রলীগ পাবেল গ্রুপের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্টের পর সিএনজি অটোরিকশা যোগে তার লাশ বিয়ানীবাজার হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার জানান, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। গুলিতে তার মাথার মগজ বের হয়ে যায়। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে প্রথমবর্ষের দুই ছাত্রের মধ্যে মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পুলিশের পাঁচ সদস্য কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করে। দুপুরে গুলির শব্দ শুনে ইংরেজি বিভাগের শ্রেণি কক্ষ থেকে গুলিবিদ্ধ যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, পাভেল গ্রুপের তিন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিলেট পাঠানো হয়েছে। এখন এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বের করতে পুলিশের কয়েকটি দল কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজ্ঞান চাকমা নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। রুমের ভেতরে কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ঢোকার পর গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর ওই ছাত্রের লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান সুজ্ঞান।

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed