পেরুতে পাওয়া এলিয়েনের মমি দেখালেন বিজ্ঞানীরা!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পৃথিবীতে ভিনগ্রহীরা এসেছিল কিনা এ নিয়ে তর্ক বহুদিনের। ১৯৪৭ সালে নিউ মেক্সিকো’র রজওয়েল’এ অজানা যান অর্থাৎ ইউএফও (Unidentified flying object) বিধ্বস্তের ঘটনার পর মানুষ বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে। শত চেষ্টার পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ার মতো শক্তিধর এবং মহাকাশ গবেষণায় এগিয়ে যাওয়া দেশগুলো ধীরে ধীরে এলিয়েনের অস্তিত্বের বিষয়ে মুখ খুলছে।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি পেরুতে খুঁজে পাওয়া ৫টি প্রাচীন মমির ছবি প্রকাশ করেছে। রীতিমতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিজ্ঞানীরা যে মমিগুলোর ছবি জনসমক্ষে উন্মোচন করেছেন তা নিয়ে এরইমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম দি সান এবং দি ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রাচীন দেহগুলোকে নিখুঁতভাবে মমি করে রাখা হয়েছিল। সংবাদসম্মেলনে বিজ্ঞানীরা জানান, পরীক্ষা করে দেখা গেছে মমিগুলো কম করে হলেও ১৭শ’ বছরের পুরনো। কিন্তু ভালো করে লক্ষ্য করলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে সেগুলো মানুষের নয়!
নাজকা’র মমি (The mummies of Nazca) শীর্ষক ওই সংবাদ সম্মেলনে পেরু’র খ্যাতিমান সাংবাদিক জিমি মাউসেনও উপস্থিত ছিলেন। যিনি ইউএফও বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচিত। ছবিগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, প্রাচীনকালের এসব মরদেহের সঙ্গে মানুষের শরীরের মিল খুব কমই রয়েছে।
দেহের কাঠামো বিশ্লেষণ করলে সেগুলো কল্প কাহিনী হিসেবে প্রচলিত ‘রেপটালিয়ান’ এলিয়েনদের ধারণাই জোরালো করে। পেরুর এক শবাধার থেকে ওই ৫টি মমির সন্ধান পাওয়া যায়। আবিস্কারের পর বিষয়টি প্রকাশে বিজ্ঞানীদল কিছুটা দ্বিধাতেও ছিলেন। কেননা, যে প্রমাণগুলো তাদের সামনে এসেছে তা অনেকের বিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মাউসেন অবশ্য জোর দাবি করেন, এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই মমিগুলোর যে ছবি তারা তুলেছেন তাতে মিথ্যের কোনো স্থান নেই। আজ থেকে ১৭শ’ বছর আগের মমিগুলো মানুষের ছিল না।
মানুষের হবেই বা কি করে.. রুশ বিজ্ঞানীরাও দেখিয়ে দিলেন যে, দু’পেয়ে হলেও মমিগুলোর সঙ্গে মানুষের মিল খুব কমই রয়েছে। তাদের মাথা ও চেহারার আকার, হাতের ৩ আঙ্গুল কখনই মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। প্রকৃতির খেয়ালে মানুষের শরীরে কিছুটা অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও একই সঙ্গে ৫টি মমির মধ্যে তা থাকার কোনো যুক্তিই নেই।
আনুমানিক ২৪৫ থেকে ৪১০ খ্রিস্টাব্দের ওই মমিগুলো যে স্থানটি থেকে পাওয়া গেছে তা নানা কারণেই বিতর্কিত। পেরুর প্রাচীন শহর নাজকা’য় যে এলিয়েনের যাতায়াত ছিল তার অসংখ্য প্রমাণ দেখিয়েছেন ইউএফও বিশ্বাসীরা।
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানান, এই আবিস্কার মেনে নিলে পৃথিবীর ইতিহাস অন্যভাবে রচনা করতে হবে। একই সঙ্গে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক রয়েছে তারও অবসান হবে বলে তারা দাবি করেন।
তারা এটাও দাবি করেন, প্রাচীনকাল থেকেই এলিয়েন যে মানুষকে বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে তাও স্বীকার করে নিতে হবে। পৃথিবীর জলবায়ুর জন্য হোক, কিংবা ভারসাম্য… তারা আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্নপ্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পিরামিড ও স্টোনহেঞ্জ’গুলোর অবস্থান ও কার্যকারিতার ব্যাখ্যাও হয়তো এমনিভাবেই একসময় প্রকাশ পাবে।
ভিডিও…
Related News
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেটার নতুন চমক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : স্মার্টফোনে যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটির বেশি মানুষ ব্যবহারRead More
যেভাবে ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করছে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার
প্রযুক্তি ডেস্ক: অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে সাইবারনিরাপত্তা গবেষকেরা। ‘ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স’ নামেরRead More



Comments are Closed