Main Menu

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। অধিকাংশ এলাকার পানি নেমে গেলেও অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা ও কুশিয়ারার তিনটি পয়েন্টে এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে বন্যা কবলিত উঁচু এলাকার পানি নেমে গেলেও নিম্নাঞ্চলের পানি নামছে ধীরে ধীরে। ফলে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমছেনা দুর্গত মানুষদের। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, কয়েকদিনের উন্নতির পর ৯ জুলাই রোববার থেকে ফের অবনতি হচ্ছে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির। আগের তিন দিন নদনদীর পানি কমলেও রোববার থেকে আবার সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এতে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে পড়েছে সিলেটের ৮ উপজেলার আড়াই লক্ষাধিক মানুষ। বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মানুষের দূর্ভোগও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাওয়া তথ্য মতে সোমবার বেলা ১২টায় কানাইঘাটে সুরমা বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার, শেওলায় কুশিয়ারা বিপদসীমার ৬৯ সেন্টিমিটার, আমলসীদে কুশিয়ারা বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে সাপ ও বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপদ্রব। সাপের কামড়ে কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া ফেঞ্চুগঞ্জে চিতা বাঘসহ কয়েকটি বন্য প্রাণীকে পিঠিয়ে হত্যা করেছেন স্থানীয়রা।
ফেঞ্চুগঞ্জের স্থানীয় সংবাদকর্মী ফরিদ উদ্দিন জানান, বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাপ ও বন্য প্রাণীর উপদ্রব বেড়েছে। বিশেষ করে বন জঙ্গল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব প্রাণী আশ্রয় নিতে লোকালয়ে চলে এসেছে।
তিনি জানান, উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের জনতা একটি চিতা বাঘ পিঠিয়ে হত্যা করেছে। এ ছাড়া একই গ্রামের খোরশেদ মিয়া সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন। তাছাড়া রাস্তা-ঘাটে, বসত ঘরে কিংবা বাড়ির ঝোঁপঝাড়ে সাপের দেখা মিলছে বলেও জানান তিনি।
একই ভাবে বালাগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ওসমানীনগরের বিভিন্ন স্থানে সাপের উপদ্রবের খবর স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
জেলা ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুফজেলুর রহমান মজুমদার জানান, বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলের পানি নামছে ধীর গতিতে। সরকারি ভাবে বিভিন্ন উপজেলায় ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে, সোমবারও সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে পানি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা পাউবোর।
পাউবোর সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার পানি বিচিত্র আচরণ করছে। বৃষ্টি থামলেও পানি কমছে না। সিলেটে এমন কখনো হয় না। সিলেটে বৃষ্টি হলে দ্রুত বন্যা হয়ে যায় এবং বৃষ্টি থামলে পানি দ্রুত নেমেও যায়। কিন্তু এবছর পানি নামতে পারছে না। ফলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত কয়েক দিন ধরে জেলার ৮টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা ৮টি হচ্ছে- জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, কানাইঘাটের একাংশ, বিশ্বনাথ ও কোম্পানীগঞ্জ।

Share





Related News

Comments are Closed