Main Menu

ছাত্রলীগ নেতা নজরুল শাবি হল থেকে বিতাড়িত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাইনিং-এ ফাও খাওয়াসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের (স্থগিত কমিটির) সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম সিনিয়র নেতাদের তোপের মুখে হল ছেড়ে পালিয়েছে।
সোমবার গভীর রাতে শাখা ছাত্রলীগের এই নেতার বিতর্কিত কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে সিনিয়র-জুনিয়ররা ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে গেলে সিনিয়ররা এসে ঘটনা নিবৃত্ত করার চেষ্টার এক পর্যায়ে তাকে হল ছেড়ে পালাতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
স্থগিত হওয়া কমিটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ২০১৬-১৭ সেশনে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির মূল হোতা হচ্ছে এই নজরুল। তার চক্রান্তেই ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
এছাড়াও সে টঙে চাঁদাবাজি, বহিরাগতদের কাছ থেকে টাকা আদায়, ডাইনিং এ ফাও খাওয়াসহ বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করেন আরো বেশ ক’জন সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা।
ছাত্রলীগ নেতা নজরুল আবাসিক হল থেকে পালানোর পর মঙ্গলবার সকালে হলের খাবারের দোকানের বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে উচ্ছাস প্রকাশ করে বলতে দেখা গেছে ‘আজ দুইটা ডিম বেঁচে গেছে’।
আবাসিক হলে আয়েশী জীবনযাপন করা এই নেতা একাই শাহপরান হলের এ বøকের ২০৭ নম্বর রুম অবৈধভাবে দখল করে থাকত। তার রুমে অবৈধ ডিস লাইন সংযোগ আছে। সারারাত জুনিয়দের নিয়ে উন্মাদনা করার অভিযোগ আশপাশের বাসিন্দাদের। আবাসিক হলে প্রচলন আছে সর্বদা মিনারেল ওয়াটার খাওয়া এই নেতা রাতের আঁধারে অপ্রতিরোধ্য! পালসার বাইকে রাত বেরাত তাকে ক্যাম্পাসে ও শহরে দেখা যায়। এই বাইকে চড়েই সে সারা ক্যাম্পাসে রাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করায় ক্ষুব্ধ সিনিয়র নেতারা।
শাহপরান হল সূত্র নিশ্চিত করেছে, আবাসিক হলে তার কোন বৈধতা নাই। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
শাহপরান হলের প্রভোস্ট শাহেদুল হোসাইন বলেন, আমি বিষয়টি এখনো অফিসিয়ালি জানিনি। নজরুল হলের বৈধ শিক্ষার্থী কিনা সেটাও তিনি জানেন না বলে জানান।
স্থগিত হওয়া শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, নজরুলের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে বার বার কল করা হলেও হল থেকে পালাতক নজরুল ইসলাম রিসিভ করেনি।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি জালিয়াতির চেষ্টাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমিনকে আটক করা হয়। আল আমিন নজরুল ইসলামের অনুসারী। তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে নজরুল তদবির করে বলেও বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এদিকে সোমবার বিকেলে সহসভাপতি সৈয়দ জুয়েমকেও আবাসিক হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের একাধিক সূত্র। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষই মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল এক বহিরাগত ছাত্রীকে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী কর্তৃক শ্লীলতাহানীর অভিযোগ উঠলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ গত ১২ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে।

Share





Related News

Comments are Closed