যেভাবে গ্রেপ্তার হয় সাফাতের দেহরক্ষী ও ড্রাইভার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাফাত আহমেদের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার রাতে দেহরক্ষী রহমতকে গুলশান থেকে ডিবি পুলিশ এবং ড্রাইভার বিল্লালকে পুরান ঢাকার নবাবপুর থেকে র্যাব-১০ গ্রেপ্তার করে।
বিল্লালকে গ্রেপ্তারের পর রাতে কারওয়ান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফ করেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর।
তিনি বলেন, নবাবপুরের ইব্রাহিম হোটেল থেকে বিল্লালকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে সিলেট থেকে ঢাকায় এসে ওই হোটেলে উঠেছিল সে।
ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে র্যাব বলেছে, ঘটনার দিন (২৮ মার্চ) বিকেলে বিল্লাল গুলশান ২ থেকে শাফাতের এক বান্ধবী ও বনানীর ১১ নম্বর থেকে আরেক বান্ধবীকে নিয়ে হোটেল রেইনট্রিতে যায়। এর আগে শাফাত ও নাঈম সেখানে যান। রাত আটটা থেকে সোয়া আটটার দিকে শাফাত তাকে ফোন করে বারিধারা থেকে তার দেহরক্ষী রহমতকে নিয়ে আসতে বলেন।
এরপর তিনি অন্য একটি স্থান থেকে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রীকে গাড়িতে তুলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে আবার হোটেলে যান। আগে হোটেলে আসা দুই তরুণী তখন চলে যান। এরপর বিজয়নগর থেকে আরেক তরুণীকে নিয়ে হোটেলে আসেন।
হোটেলের সুইমিংপুলে সবাইকে সাঁতার কাটতে দেখেন তিনি। ওই নারীদের একজন চিকিৎসক বন্ধুও ছিলেন। রাত চারটার দিকে শাফাত ও নাঈম দুই কক্ষে দুই নারীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় বিল্লাল দুই কক্ষের মাঝের জায়গা থেকে সবকিছু ভিডিও করেন।
র্যাব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, মামলা হওয়ার পর বিল্লাল তার মুঠোফোন থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলেন বলে জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পুলিশ ও ভিকটিমদের ভাষ্য অনুসারে- ধর্ষণের ঘটনার পরবর্তীতে সাফাত তার দেহরক্ষী রহমত আলীকে তরুণীদের বাসায় পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ও ভয়ভীতি দেখায়। এই রহমতের মাধ্যমে ধর্ষকদের সঙ্গে ভিকটিমদের পুনরায় দেখা করার জন্যও বলেছিল। তাদের হুমকি ও লোকলজ্জার ভয়ে এক পর্যায়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই দুই ছাত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার রাতে দেহরক্ষী রহমতকে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
উল্লেখ্য, ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফ, গাড়িচালক বিল্লাল ও অজ্ঞাতনামা একজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার সাফাত ও সাকিফকে রিমান্ডে নিয়ে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে নাঈম আশরাফকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
Related News
নরসিংদীতে চাঁদা না পেয়ে ট্রান্সপোট ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর শিবপুরে চাঁদা না পেয়ে নবী হোসেন নামে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীকে গুলি ওRead More
ভারতীয় ভিসায় নতুন শর্ত, না মানলে আবেদন বাতিল
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এখনRead More



Comments are Closed